নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার একগুচ্ছ অ্যাডমিট সহ তমলুকে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক সরকারি কর্মী। ধৃতের নাম শেখ মইউদ্দিন। তার বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। তিনি তমলুকে ডিস্ট্রিক্ট ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের গ্রুপ-ডি কর্মী। মঙ্গলবার রাতে তমলুক শহরে সরকারি আবাসন থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ সহ বিভিন্ন পরীক্ষার মোট ১৫টি অ্যাডমিট তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে। তাঁর জিম্মায় পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর, ফুড ইন্সপেক্টর সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অ্যাডমিট ছিল। টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি চক্রের সঙ্গে ওই সরকারি কর্মীর যোগ রয়েছে বলে সোর্স মারফত খবর পেয়েছিল পুলিশ। সেইমতো মঙ্গলবার রাতে তমলুক থানার পুলিশের টিম হানা দিয়ে ওই সরকারি কর্মীকে পাকড়াও করেছে। বুধবার ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খান বলেন, ধৃতের সাতদিনের পুলিশি হেপাজত হয়েছে।
তমলুকের মহকুমা পুলিশ অফিসার আফজল আব্রার বলেন, এক ব্যক্তির কাছে অনেকগুলি অ্যাডমিট কার্ড রয়েছে বলে আমরা সোর্স মারফত খবর পেয়েছিলাম। কনস্টেবল সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড তার কাছে ছিল। এরপর আমরা ওকে গ্রেফতার করি। তাকে হেপাজতে নিয়ে এসম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হবে।
আগামী ৩০ নভেম্বর রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে চার মহকুমায় ৮০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবেন। কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড এবং এনভিএফ কর্মীদের জন্য সিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাই তাদের অনেকে এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। এছাড়াও কয়েক হাজার ফ্রেশার ওই পরীক্ষায় বসছেন। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার আগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে গোপনে টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পুলিশও এনিয়ে নজরদারি চালানো শুরু করে। ডিস্ট্রিক্ট ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের ওই কর্মী পরীক্ষার আগে নিয়োগের টোপ দিয়ে অ্যাডমিট জোগাড় করছে বলে সোর্স মারফত খবর পায় পুলিশ। তারপরই তার কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।
গত কয়েকদিন ধরেই কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থী পিছু ১০-১২লক্ষ টাকা লেনদেন হচ্ছে বলে জেলার নানাপ্রান্তে গুঞ্জন চলছিল। ওই টাকা ফেললেই চাকরি পাকা বলে কোনও কোনও মহল থেকে রটানো হচ্ছে। পরীক্ষা ঘনিয়ে আসতেই অসাধু চক্র ময়দানে নেমেছিল বলে অভিযোগ। প্রার্থীদের কেউ কেউ তার শিকার হন। যদিও তমলুকের ওই ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের গ্রুপ-ডি কর্মী কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জোর গলায় দাবি করেন। এদিন আদালতে পেশ করার সময় তিনি বলেন, আমার কাছে দু’টি অ্যাডমিট কার্ড ছিল। সেই দু’টি মাসতুতো ভাই-বোনের।
মঙ্গলবার রাতে তমলুক থানার সাব ইন্সপেক্টর বরুণ মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি টিম ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ওই অফিসার সুয়োমোটো কেস করেছেন। তাকে হেপাজতে নিয়ে এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে চাইছে পুলিশ। ধৃত গ্রুপ-ডি কর্মীর কাছে কীভাবে কনস্টেবল নিয়োগ সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছল, সেটা জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। এছাড়া এই ঘটনার নেপথ্যে লেনদেন হয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।