Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিআই পাওয়ার আনন্দে ক্রেতাদের মোতিচুর বিলি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের

‘গান বাজনা মতিচুর, তিন নিয়ে বিষ্ণুপুর’— সেই মতিচুরের লাড্ডু এবার পেল ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ।

জিআই পাওয়ার আনন্দে ক্রেতাদের মোতিচুর বিলি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ‘গান বাজনা মতিচুর, তিন নিয়ে বিষ্ণুপুর’— সেই মতিচুরের লাড্ডু এবার পেল ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ। অর্থাৎ মতিচুরের লাড্ডুর উৎপত্তিস্থল যে বিষ্ণুপুর সেই স্বীকৃতির উপর পড়ল সরকারি সিলমোহর। স্বভাবতই বিষ্ণুপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত খুশি। মল্লরাজাদের রাজভোগ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যমণ্ডিত মতিচুরের লাড্ডুর জিআই স্বীকৃতির জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই স্বীকৃতি মেলার আনন্দে বৃহস্পতিবার তাঁরা সাধারণ খদ্দেরদের লাড্ডু খাওয়ান। 

Advertisement

বিষ্ণুপুর মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি গৌতম মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফল পেলাম। আমরা ভীষণ খুশি। সেই আনন্দে সাধারণ ক্রেতাদের লাড্ডু খাইয়েছি। মহকুমা প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। মতিচুরের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কীভাবে এগব তা নিয়ে শীঘ্রই আমরা আলোচনায় বসব। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লরাজাদের আমলে বিষ্ণুপুরের জঙ্গলে প্রচুর পিয়াল গাছ ছিল। পিয়াল ফল থেকে তৈরি বেসন দিয়ে বানানো হতো মতিচুরের লাড্ডু। অত্যন্ত সুস্বাদু সেই মিষ্টি যেত রাজবাড়িতে। কালক্রমে জঙ্গল কমে যাওয়ায় হারিয়ে গিয়েছে পিয়াল গাছও। যে কারণে হারাতে বসেছে আসল মতিচুরের লাড্ডু। তবে এখনও বিষ্ণুপুরের গুটি কয়েক ব্যবসায়ী পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। তাঁরা ঝাড়খণ্ড থেকে পিয়াল ফলের বেসন সংগ্রহ করে আসল মতিচুরের লাড্ডু তৈরি করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে ভাইফোঁটার দিন মতিচুরের লাড্ডুর চাহিদা হয় আকাশছোঁয়া। তাই বিষ্ণুপুরের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মতিচুরের লাড্ডুর জিআই তকমা পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাঁদের সহযোগিতা করা হয়। 
মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, খুবই সহজ পদ্ধতিতে তৈরি হয় মতিচুরের লাড্ডু। উপকরণ হিসাবে পিয়াল ফলের বেসন, দেশি ঘি, চিনি ও মগজ বীজ ব্যবহার করা হয়। আগে বিষ্ণুপুরের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা পিয়াল ফল তুলে তা ঢেঁকিতে গুঁড়িয়ে বেসন তৈরি করতেন। সেই বেসন ব্যবহার হতো লাড্ডু তৈরিতে। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের কিছু কিছু জায়গায় পাওয়া যায় পিয়াল ফল। সেই ফল থেকে তৈরি বেসন প্রথমে  জল দিয়ে মাখা হয়। তারপর মিহিদানার চেয়ে বড়, কিন্তু বোঁদের চেয়ে ছোট দানা তৈরি করা হয়। তা ঘিয়ে ভাজা হয়। তারপর চিনির রস তৈরি করে তাতে ফেলা হয়। খানিকক্ষণ রসে ভিজিয়ে রেখে তারপর ছেঁকে শুকনো পাত্রে রাখা হয়। তার সঙ্গে মগজ বীজ মেশানো হয়। এভাবেই তৈরি হয় মতিচুর। তারপর মতিচুর গোল করে পাকিয়ে লাড্ডু বানানো হয়। মল্লরাজাদের আমলে তা রাজভোগ হিসেবে ব্যবহার হতো। 
ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, ঝাড়খণ্ডের কিছু কিছু জায়গায় পিয়াল গাছের চাষ হয়। ওই বেসনের দাম ২২০০ টাকা কেজি। ওই বেসনের তৈরি মতিচুরের স্বাদ অনন্য। বিষ্ণুপুরে বেশকিছু ব্যবসায়ী এখনও তা তৈরি করে ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর ফল আমরা সকলেই পেলাম। 
   চলছে মতিচুর বিলি। নিজস্ব চিত্র   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ