নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: স্বল্প পরিকাঠামোয় ফের অসাধ্যসাধন রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের। এক প্রৌঢ়ার গলায় থাকা ‘প্রকাণ্ড’ টিউমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করতে সক্ষম হলেন হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা। মহকুমা হাসপাতালেই এই জটিল অস্ত্রোপচার হওয়ায় আপ্লুত রোগীর পরিবার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁয়তাল্লিশের ওই প্রৌঢ়ার নাম শীলা কর। বাড়ি রানাঘাট শহরের মদনমোহনপল্লিতে। কয়েক মাস ধরেই তাঁর গলার কাছে একটি অংশ ফুলতে থাকে। প্রথমে হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু, না কমায় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে আসেন। সেখানে ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর জানতে পারেন, ওই প্রৌঢ়ার গলায় প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের বৃত্তাকার একটি থাইরয়েড গ্ল্যান্ড টিউমার রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অস্ত্রোপ্রচারের মাধ্যমে সেই টিউমার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা। এরপর গত ১০ এপ্রিল ওই প্রৌঢ়াকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালের শল্য বিভাগে। শুক্রবার তিন চিকিত্সকের একটি দল গঠন করা হয় অস্ত্রোপচারের জন্য। ওই দলে ছিলেন ইএনটির দুই চিকিৎসক জিষ্ণু হোড় এবং অসিতকুমার বিশ্বাস। এছাড়াও ছিলেন অ্যানাস্থেসিয়া চিকিৎসক অনিন্দিতা দত্ত রায়। তাঁরাই প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় সফলভাবে ওই টিউমার প্রৌঢ়ার গলা থেকে বাদ দিতে সফল হন। অস্ত্রোপচারটি কেন জটিল? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মানবদেহের গলা এমন একটি অঙ্গ যেখান দিয়ে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে সমস্ত শিরা-উপশিরা নার্ভাস সিস্টেম বুক হয়ে শরীরের নিম্নাংশে নেমেছে। এছাড়াও রয়েছে শ্বাসনালি, খাদ্যনালি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোকাল কর্ড। ফলে অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ভয়ানক বিপদের ঝুঁকি থাকে। এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের পরিকাঠামো রানাঘাট হাসপাতালে নেই। তা সত্ত্বেও স্বল্প পরিকাঠামোতেও তা সফলভাবে দু’ঘণ্টার চেষ্টায় করে দেখিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক জিষ্ণুবাবু বলেন, ওই প্রৌঢ়া সুস্থ আছেন। স্বাভাবিক কথাবার্তা বলা, খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন। টিউমারটি কী ধরনের তা জানতে আমাদের বায়োপসি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগামী দু’-একদিনের মধ্যে তাঁকে ছুটিও দিয়ে দেওয়া হবে। রানাঘাট হাসপাতালে সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, আমাদের হাসপাতালের ইতিহাসে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের এহেন জটিল অস্ত্রোপচার এই প্রথম। উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসকরা একপ্রকার অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন। অনেক রেফার সংখ্যা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপ্রচার হাসপাতালেই করা সম্ভব হচ্ছে।