সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জাতপাত তুলে গালিগালাজের অভিযোগ নিয়ে শিলিগুড়ির মেয়রের দ্বারস্থ হলেন এক নাগরিক। শুক্রবার শিলিগুড়ির ডাম্পিংগ্রাউন্ড পরিদর্শনে যান বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরুণ মণ্ডল এবং তাঁর দলের কাউন্সিলররা। সেখানে স্থানীয় এক বাসিন্দার বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। ডাম্পিংগ্রাউন্ড নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগে সরব হন গোপাল তিওয়ারি নামে ৪১নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাসিন্দা। শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার টক টু মেয়র ফোন ইন লাইভ অনুষ্ঠানে মেয়র গৌতম দেবকে তিনি অভিযোগ জানান, ডাম্পিংগ্রাউন্ড নিয়ে বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম। তার জন্য বিজেপি নেতৃত্ব আমাকে জাতপাত তুলে গালিগালাজ করেছে। এখান থেকে চলে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
এই অভিযোগ শোনার পর মেয়র গোপালবাবুকে বলেন, এটা বাংলা। এখানে আমরা জাতপাতের রাজনীতি হতে দেব না। আপনি নির্ভয় থাকুন। এভাবেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যান।
যদিও বিজেপি গোটা ঘটনাকে তৃণমূলের সাজানো নাটক বলে জানিয়েছে। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, শুক্রবার আমরা ডাম্পিংগ্রাউন্ড পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। আমরা কাউকে জাতপাত তুলে গালিগালাজই করিনি। আসলে ডাম্পিংগ্রাউন্ড রক্ষণাবেক্ষণে নিজেদের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরানোর জন্যই তৃণমূল তাদের কর্মীকে দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করাচ্ছে। পুরোটা তাদের সাজানো ঘটনা।
এছাড়া এদিন শহরের পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে কয়েকটি ফোন পান মেয়র। পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে শিলিগুড়ি পুরসভা মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহরে পানীয় জলের সমস্যায় জলচুরি চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে বলে জানান মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, অনেক অ্যাপার্টমেন্ট ও বহুতলে পুরসভার জলের লাইনের সঙ্গে বাড়িতে টুলু পাম্প লাগিয়ে সরাসরি জল তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে তার আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা ঠিকমতো জল পাচ্ছেন না। এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে পুরসভা পদক্ষেপ করেছে। অনেকের জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাতেও জলচুরির প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। মেয়র বলেন, এবার কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। জল চুরি ধরতে বরো ভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করে ধারাবাহিক অভিযানে নামব। যেখানেই জল চুরি ধরা পড়বে, সেই বাড়ির জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব চিত্র।