নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শেষ করার কথা ২৫ জুলাই। তার আগেই আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বিহারে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের কাজ (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) শেষ করতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। রবিবার পর্যন্ত ৮২ শতাংশেরও বেশি ফর্ম ফিলাপ হয়ে গিয়েছে। আর আট দিনেই বাকি অংশ শেষ করতে উঠে পড়ে লেগেছে কমিশন। নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত অফিসার। ঘনঘন দিল্লি থেকে বিহারে সিইও’র কাছে যাচ্ছে ফোন। চাওয়া হচ্ছে আপডেট?
কেন এত তাড়াহুড়ো? ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ আদালতে রয়েছে এ সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি। তার সাতদিন আগেই কমিশনকে তাদের লিখিত বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আর সেই জবাবেই কমিশন জানাতে চায়, ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপে কাজ ১০০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। এবং তারই সঙ্গে কমিশন হলফনামায় দেখাতে চায় যে, বিহারে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের কেন প্রয়োজন ছিল।
রবিবার কমিশন জানিয়েছে, স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন করতে গিয়ে বিহারের বাসিন্দা হিসেবে অনেক বাংলাদেশি, নেপালি এবং বার্মিজের (মায়ানামারের প্রকৃত নাগরিক) সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এদের কোনওভাবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাখা হবে না। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ফাইনাল ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তার আগে আগামী ১ আগস্ট প্রাথমিক স্ক্রুটিনি শেষে প্রকাশ হবে খসড়া তালিকা। ভোটার সেজে থাকা বিদেশিদের বাদ দেওয়া হবে। যদিও কত ‘বিদেশি’র সন্ধান পাওয়া গিয়েছে? তাদের কি ভোটার, আধার বা রেশন কার্ড আছে? কতদিন বিহারে বাস করছে? ২০০৩ সালের পর ভোট দিয়েছে কি? কমিশনের কাছে এসব প্রশ্নের জবাব চাওয়া হলেও কিছু পাওয়া যায়নি। কমিশনের সদর দপ্তর স্রেফ জানিয়েছে, বিহারে বুথ লেভেল অফিসারদের কাছ থেকে এমনই প্রাথমিক রিপোর্ট দিল্লিতে এসেছে। বাকি বিস্তারিত খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই জানা যাবে।
কমিশন যেভাবে বিদেশি ভোটারের তথ্য দিয়ে একাংশের নাম কাটার আভাস দিয়েছে, তার সমালোচনায় সরব বিরোধীরা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লালু-পুত্র তেজস্বী বলেছেন, ২০০৩ সালে ইউপিএ আমলেও স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন হয়েছিল। তখন তো এরকম হল্লা বিতর্ক হয়নি। ২০১৪, ’১৯ এবং ২০২৪ সালে লোকসভার নির্বাচন হয়েছে। অনেক জায়গাতেই আমরা লক্ষাধিক ভোটে হেরেছি। তাহলে তারা সবাই নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দিয়েছিলেন? তাই যদি হয়, তাহলে মোদিজিই তো বিদেশিদের ভোটে জিতেছেন। কটাক্ষের সুরে তেজস্বীর মন্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ওই সূত্রকে আমরা মূত্র বলে মনে করি। কমিশন আসলে নিরপেক্ষ নয়। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে। বিকাশশীল ইনসান পার্টির প্রধান মুকেশ সাহানির তোপ, বিদেশিরাই যদি বিহারে ঢুকে বসে থাকে তাহলে তো তার দায় সম্পূর্ণ কেন্দ্রের। সীমান্ত সুরক্ষা করতে পারেনি কেন? অবিলম্বে স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ইস্তফা দেওয়া উচিত।