Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ত্রুটিপূর্ণ তালিকাতেই ২০২৪’র ভোট, ঘুরিয়ে মেনে নিল কমিশন, হাস্যকর সাফাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের: মহুয়া

তাহলে কি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকাতেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হয়েছে? প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়ালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

ত্রুটিপূর্ণ তালিকাতেই ২০২৪’র ভোট, ঘুরিয়ে মেনে নিল কমিশন, হাস্যকর সাফাই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের: মহুয়া
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাহলে কি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকাতেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হয়েছে? প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়ালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে ‘ঠারেঠোরে’ বিষয়টি মেনে নিয়ে বললেন, ‘সেই কারণেই তো স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। সম্পূর্ণ ক্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরিই যার লক্ষ্য।’ বললেন, ‘প্রতি জানুয়ারিতে যে স্পেশাল সামারি রিভিশন হয়, সেখানে ঘরে ঘরে বুথ লেভেল আধিকারিকরা গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম দেয় না। যা এসআইআরে হচ্ছে। ফলে অনেক জায়গাতেই মৃত ব্যক্তির নাম থেকে যায়। একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকে। তাই এই শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় একেবারে নতুন (ফ্রেশ) ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে। নতুন এপিক (ভোটার পরিচয়পত্র)ও দেওয়া হবে।’

Advertisement

ভোটার তালিকায় ত্রুটি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘একাধিক জায়গায় নাম থাকলেও ভোট একটি জায়গাতেই দিতে পারেন নাগরিকরা। ফলে ভোটার তালিকা আর ভোটদানের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই আমার প্রশ্ন, ভোট চুরি হল কী করে?’ সাফাই দেওয়ার প্রাণপন চেষ্টা করলেন জ্ঞানেশ কুমার। ঠিকানায় ‘জিরো’ প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্য, এটা জাল নয়। অনেকেই রাস্তায় থাকেন। কোনও কোনও জায়গায় পঞ্চায়েত থেকে হাউস নাম্বার দেওয়া হয় না। তাই এই জিরো, জাল নয়। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরার সওয়াল, একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকতেই পারে, এই কথাটি কি জ্ঞানেশ কুমার আদালতে হলফনামা দিয়ে বলতে তৈরি? তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সরাসরি কমিশনের যুক্তিকে হাস্যকর আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২২ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থাকার দায় তো কমিশনকেই নিতে হবে।
৮৫ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার এড়ালেন নানা প্রশ্ন। রাহুলকে জবাবদিহির নোটিস পাঠানো হলেও বিজেপির অনুরাগ সিং ঠাকুরকে কেন নয়? জবাব দিলেন না। বিহারে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়ল কী করে, তারও স্পষ্ট উত্তর নেই। এসআইআরের আড়ালে কি আদতে এনআরসিই উদ্দেশ্য? স্পষ্ট করলেন না। আবার ‘না’ও বললেন না। এক প্রশ্নের উত্তরে বললেন, পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর হবে। ভোটের আগে। সময় মতোই দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। নাম না করে এদিন রাহুল গান্ধীকে ‘আলটিমেটাম’ও দিলেন জ্ঞানেশ কুমার। বললেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাঁধে বন্দুক রেখে ভারতের ভোটারদের বিভ্রান্ত করা চলবে না। জাতীয় যে নেতা ভোট চুরির অভিযোগ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁকে সাতদিনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে প্রমাণ দিতে হবে। নাহলে গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা যদি না হয়, স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, ভোট চুরির অভিযোগ পুরো মিথ্যে।’ জ্ঞানেশ কুমার বললেন, সব রাজনৈতিক দলকেই বলছি, এখনও ১৫ দিন সময় আছে। ভোটার তালিকায় কোনও ত্রুটি দেখলে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের অভিযোগ করুন। যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট ফর্ম ভরে আবেদন করুন। এটুকু বলতে পারি, প্রকৃত ভারতীয় কোনও নাগরিকের নাম অকারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। নাম তুলতে আধার কার্ড নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছি। 

সম্পর্কিত সংবাদ