Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফেডারেশনের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ক্লাব জোট

কথায় বলে শক্তের ভক্ত, নরমের যম। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার কাণ্ডকারখানা দেখে এই প্রবাদটাই মাথায় এল। বলতে বাধ্য হচ্ছি, ফেডারেশন কর্তাদের মেরুদণ্ড নেই। ব্যাটন হাতে রাখতে টাকা প্রয়োজন।

ফেডারেশনের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ক্লাব জোট
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

অলোক মুখার্জি: কথায় বলে শক্তের ভক্ত, নরমের যম। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার কাণ্ডকারখানা দেখে এই প্রবাদটাই মাথায় এল। বলতে বাধ্য হচ্ছি, ফেডারেশন কর্তাদের মেরুদণ্ড নেই। ব্যাটন হাতে রাখতে টাকা প্রয়োজন। ফেডারেশনের ভাঁড়ে মা ভবানী। ফুটবলকে জনপ্রিয় করার চেয়ে পদ আঁকড়ে থাকাই তাদের পছন্দ। আর এখন ফেডারেশন বনাম ক্লাবজোটের নাটক দেখতে দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা ক্লান্ত। মাঠে বল গড়াবে কবে? মনে হচ্ছে, ক্লাবজোটের মোড়কে দাবি জানানোর নামে কার্যত ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে ফেডারেশনকে। মেঘের আড়ালে কোনও মেঘনাদ লুকিয়ে নেই তো? হয়তো অদৃশ্য সুতোয় টান দিয়ে পুতুল নাচ নাচাচ্ছে সবাইকে। মনে রাখা উচিত, ফুটবল না বাঁচালে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। এই নাটক বন্ধ হোক। প্রয়োজনে কড়া হতে পরিস্থিতি সামাল দিক সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। কারণ, নরম মাটিতে সবাই আঁচড়াতে ভালোবাসে। 

Advertisement

আইএসএল নিয়ে জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়েছিল এআইএফএফ। ক্লাব জোটের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মিটিংও হয়েছে তাদের। ফেডারেশন অনেকটা নমনীয় হলেও জোটের নিত্যনতুন বায়না চলছে। সিস্টেমের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ হয় না। ‘খেলব না’ গোঁ বজায় রাখলে কখনও মিটবে না সমস্যা। আসলে বেশিরভাগ ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা কর্পোরেট সংস্থার হাতে। ফুটবলের প্রতি তাদের তেমন দায়বদ্ধতা নেই। ওড়িশার মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি দল তুলে নিতে পারলে বাঁচে। সুপার কাপ, ফেড কাপ, ডুরান্ড কাপের মতো টুর্মামেন্ট অনেকের কাছে গুরুত্বহীন। শুধু আইএসএল খেলাই তাদের লক্ষ্য। প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে এই মানসিকতাকে ধিক্কার জানাই। পাঠক, আমি কোনওমতেই আইএসএল বিরোধী নই। বরং গ্ল্যামার লিগ চালুর পরে পরিকাঠামো, মাঠ, স্যালারি কাঠামো অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু নিট ফল শূন্য। ভারতীয় দলের র‌্যাঙ্কিং ১৪২। কেন জানেন? প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অবনমন নেই। কোনওরকমে মান বাঁচালেই খুশি। বছরে টেনেটুনে ২৫ টি ম্যাচ খেলে এক একজন ফুটবলার। এতে পারফরম্যান্সের উন্নতি অসম্ভব। অতীতে আইএসএলে খেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি জমা দিত ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি। অথচ তারাই এখন ১ কোটি টাকা ঢালতে নারাজ। ক্লাবজোট ও ফেডারেশনের ইগোর চক্করে সবচেয়ে দুর্দশায় ফুটবলাররা। প্র্যাকটিস কবে হবে জানে না কেউ। অনেকেরই বেতন বন্ধ। অথচ লোন, ইএমআইয়ের মতো বিষয় থেমে থাকে না। এবছর ফুটবল না হলে ইকো সিস্টেম চুরমার হয়ে যাবে। কিছু স্বার্থান্বেষীর ইগো চরিতার্থ করতে গিয়ে আদতে রসাতলে যাচ্ছে ফুটবল। 

সম্পর্কিত সংবাদ