নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার বিকেলে যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে ভিড় জমিয়েছিলেন গুটিকয়েক মোহন বাগান সমর্থক। সকলের উৎসাহ ছিল নবাগত ডেজান ড্র্যাজিচকে দেখার। এদিন সকালে শহরে পা রেখেছিলেন তিনি। কালবিলম্ব না করে বিকেলেই সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের অনুশীলনে নেমে পড়লেন সার্বিয়ান মিডিও। হোটেল থেকে তাঁর গাড়ি যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে এসে থামতেই ‘ওয়েলকাম টু মোহন বাগান’ স্লোগানে মুখরিত সমর্থকরা। ড্র্যাজিচও হাসি মুখে তাঁদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করলেন। এদিন অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন সব ভারতীয় ফুটবলাররাই। পাশাপাশি কলকাতা লিগের দল থেকে সায়ন ব্যানার্জি, তন্ময় দাস, দিপ্যেন্দু বিশ্বাসরাও গা ঘামালেন পানাজিওটিসের তত্ত্বাবধানে।
মাঠে নেমে সতীর্থদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব সেরেই ফিটনেস ট্রেনিংয়ে জোর দিলেন ড্র্যাজিচ। প্রথমে ঘড়ি ধরে ১৫ মিনিট দৌড়। তারপর শুরু শারীরিক কসরত। কোচ পানাজিওটিসের নজর সারাক্ষণই ছিল তাঁর উপর। জেটল্যাগের কারণে ফিটনেসে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তাঁর বল ধরা-ছাড়া বেশ পরিষ্কার। গ্রিক কোচ জানেন, ড্র্যাজিচের সঙ্গে মিগুয়েলের বোঝাপড়া জমাট বাঁধলে চিন্তা কমবে পালতোলা নৌকার। গতবছর মাঝমাঠ নিয়ে ভুগতে হয়েছে মোহন বাগানকে। বহু ম্যাচেই বলের জোগান না পেয়ে হা-হুতাশ করেছেন ম্যাকলারেন। এবারও দলে রয়েছেন অজি বিশ্বকাপার। ফলে লক্ষ্যভেদ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সবুজ-মেরুন থিঙ্কট্যাঙ্কের। তবে মাঝমাঠের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি কোটায় সেরা দুই অস্ত্রকে রিক্রুট করেছে ম্যানেজমেন্ট। এর আগে এফসি গোয়ার হয়ে দারুণ ছন্দ মেলে ধরেছিলেন ড্র্যাজিচ। ৩৫ ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৭টি লক্ষ্যভেদ ও ৬টি অ্যাসিস্ট। ডুরান্ড কাপে গ্রিক কোচের অন্যতম ভরসা হতে পারেন তিনি।
দ্বিতীয় দিনের প্র্যাকটিস সেশানেই কোচ পানাজিওটিস বুঝিয়ে দিলেন, সুখের দিন শেষ। এদিন টানা দু’ঘণ্টা ফুটবলারদের নিংড়ে নিলেন তিনি। প্রথম দেড় ঘণ্টা গ্রিক কোচ জোর দিয়েছিলেন ফিটনেসের উপর। এই পর্বে বল পায়ে বিভিন্ন ড্রিল করতে দেখা গেল মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসোদের। শেষে ম্যাচ সিচুয়েশনে উইং-প্লে’তে জোর দেন পানাজিওটিস। মোহন বাগান দলের প্রধান শক্তি আক্রমণ। সেই অস্ত্রেই ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গলকে মাত দিতে মরিয়া গ্রিক কোচ।