Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বি-টেক পড়ুয়াকে ধর্ষণে গ্রেপ্তার সহপাঠী, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৫ লক্ষ টাকা হাতানোরও অভিযোগ

তিন বছরের ‘সম্পর্ক’। পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এবং ধর্ষণ। আর তাও নিজেরই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহপাঠীকে! ঘটনাস্থল খাস কলকাতা। চেষ্টা করেছিলেন তরুণী ভুলে যাওয়ার।

বি-টেক পড়ুয়াকে ধর্ষণে গ্রেপ্তার সহপাঠী, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৫ লক্ষ টাকা হাতানোরও অভিযোগ
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন বছরের ‘সম্পর্ক’। পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এবং ধর্ষণ। আর তাও নিজেরই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহপাঠীকে! ঘটনাস্থল খাস কলকাতা। চেষ্টা করেছিলেন তরুণী ভুলে যাওয়ার। কিছুটা ব্ল্যাকমেলে, বাকিটা সমাজের ভয়ে। কিন্তু আড়াই বছর আগের সেই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা অবশেষে আইনের দরজা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন তিনি। তার জেরেই সোমবার রাতে আনন্দপুর থানা গ্রেপ্তার করেছে অভিযুক্ত বি-টেক পড়ুয়া কৌশিক মণ্ডলকে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দপুর থানা এলাকার একটি বেসরকারি কলেজে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তরুণী। ২০২৩ সালে। এক সহপাঠীর মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় হয়েছিল কৌশিক মণ্ডলের সঙ্গে। এক ‘কমন ফ্রেন্ডে’র সূত্র ধরে মাঝেমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে আড্ডা মারতে আসত অভিযুক্ত। এমনকি মাঝেমধ্যে তরুণী ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গাতেও গিয়েছে সে। এভাবেই তার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল ছাত্রীর সঙ্গে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশ কয়েকবার তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল কৌশিক। প্রথমে রাজি না হলেও পরে সম্পর্ক তৈরি হয়। তরুণী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৩০ জুন তিনি ও তাঁর বন্ধুরা মিলে আনন্দপুর এলাকায় একটি পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে আমন্ত্রিত না হলেও কৌশিককে সেখানে নিয়ে আসেন এক কমন ফ্রেন্ড। সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, গল্পগুজব করেন। পার্টিতে মদ্যপান করে অভিযুক্ত। তরুণীর অভিযোগ, ওই পার্টিতেই আলাদাভাবে কথা বলার নাম করে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায় সে। এরপর একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তরুণী চিৎকার করলে সে সাফ হুমকি দেয়, গোটা ঘটনা ভাইরাল করে দেবে। পার্টি শেষে তরুণী একটু আলাদাভাবে বসেছিলেন। বন্ধুরা কী হয়েছে জানতে চাইলে ভয়েই বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। কয়েকদিন পর তিনি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু অভিযোগ করেননি। কিছুদিন পর অভিযুক্ত যুবক তাঁকে আবার বিরক্ত করতে শুরু করে। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে সমস্ত ঘটনা ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আতঙ্কেই তরুণী আবার ঘনিষ্ঠ হন। এরই মাঝে বিভিন্ন অছিলায় কৌশিক তরুণীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় বলে জানা যাচ্ছে। তারপরও শারীরিক সম্পর্কে আসার জন্য চাপ দেওয়ায়, তরুণী বাধ্য হয়েই ২০২৫’এর নভেম্বর মাসে আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযোগকারিণীর বয়ান রেকর্ড করে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক বারবার মোবাইল এবং নম্বর বদল করায়, তার লোকেশন পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার তদন্তকারীদের কাছে খবর আসে, বীরভূমে মহম্মদ বাজারের বাড়িতে রয়েছেন কৌশিক। সেখানে হানা দিয়ে গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে লিগ্যাল এইডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, ‘তরুণী দু’বছর পর কেন অভিযোগ করলেন? আর ওই সময়ে তরুণীর পরনের জামাকাপড়ই বা কীভাবে উদ্ধার সম্ভব?’ সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন. ‘অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোথায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি জানতে হবে। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না, জানতে হবে।’ সওয়াল শেষে কৌশিককে তিনদিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ