নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে, শুক্রবার থেকে ক্লাস শুরু হল রাজ্যের কলেজগুলিতে। ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী, পুরোদস্তুর পঠনপাঠন শুরু করে দেওয়ার আগে ইন্ডাকশন প্রোগাম আয়োজন করতে হয়। এদিন সেটাই হয়েছে কলেজগুলিতে। এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্ত কমিটি যেমন, অ্যান্টি র্যাগিং, আইসিসি প্রভৃতিতে কীভাবে অভিযোগ জানাতে হয়, তা ছাত্রছাত্রীদের ব্যাখ্যা করেন শিক্ষকরা। এছাড়া কীভাবে সিলেবাস এগবে, কলেজের পরিবেশ বা সংস্কৃতি কেমন, সেই ব্যাখ্যাও করা হয়। তবে, পঠনপাঠন শুরু করতে দেরি হওয়ার কারণে এবার দুর্গাপুজো এবং ভাইফোঁটার মধ্যে অনলাইন, অফলাইন ক্লাস করাতে চাইছে বহু কলেজ।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তথ্য বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে প্রথম দফায় ভর্তি হয়েছেন ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৮২৫ জন ছাত্রছাত্রী। কলেজ সূত্রের খবর, প্রথম দিন গরহাজিরার সংখ্যা নগণ্যই। তবে, কলেজগুলিকে মূলত ভাবাচ্ছে, কত পড়ুয়া শেষ পর্যন্ত থেকে যাবেন, সেই চিন্তাই। কারণ, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসি ও আর্কিটেকচারের কাউন্সেলিংয়ের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। কাউন্সেলিং এবং ভর্তি শেষে অনেক পড়ুয়াই জেনারেল ডিগ্রি কলেজ থেকে বেরিয়ে যাবেন। চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস সরকার বলেন, ‘পড়ুয়া ধরে রাখাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জয়েন্টের কাউন্সেলিং আগে হয়ে গেলে অনেকটা স্বস্তি ছিল।’ এদিকে, পুজোর মধ্যে অনলাইন বা অফলাইন ক্লাস করার পক্ষে লেডি ব্র্যাবোর্ন, নিউ আলিপুর কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান। সমস্ত ছাত্রীকে পেলে বেথুন কলেজও সেই পথে হাঁটতে আগ্রহী। কারণ, তাদের বেশকিছু দূরবর্তী এলাকার ছাত্রী রয়েছেন। তবে, জেলার কিছু কলেজ ওই সময়ে ছাত্রছাত্রীদের পাবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। একজন অধ্যক্ষ বলেন, ‘নিয়মিত ক্লাসে আসতে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ কমছে। পুজোর ছুটিতে স্পেশাল ক্লাসে কতজনকে পাওয়া যাবে কে জানে!’ তবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রথম সেমেস্টার এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ায় কিছুটা বাড়তি সময় পাওয়া যাবে বলেও অধ্যক্ষদের আশা। দেরিতে ক্লাস শুরু, শিক্ষায় বেসরকারিকরণের মতো ইস্যুতে এদিন বিক্ষোভ দেখান এবিভিপি সমর্থকরা।