নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আজ বহরমপুর স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের একেবারে সামনে থেকে বক্তব্য শোনার পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আজ বহরমপুর স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের একেবারে সামনে থেকে বক্তব্য শোনার পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
বছর ঘুরলে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই জনসভা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, গোটা স্টেডিয়ামে। রাজনৈতিক সভার মঞ্চে সাংসদ, বিধায়ক এবং শাখা সংগঠনের নেতৃত্বদের বসার জায়গা থাকছে। ব্লক এবং টাউন সভাপতিদেরও জায়গা দেওয়া হতে পারে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং কর্মাধ্যক্ষরাও মঞ্চে থাকবেন। মঞ্চের সামনে একটি ডি-জোন তৈরি করা হচ্ছে। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীকে সব থেকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের। দু’টি ব্লকে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের অর্ধেকের বেশি জায়গা শেড দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই মঞ্চের সামনে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে বসার জায়গা। প্রতিটি ব্লকে ঢোকার জন্য পৃথক গেট রাখা হচ্ছে। প্রতিটি গেটের সামনে নিরাপত্তার জন্য সাধারণ পোশাকে থাকবেন পুলিশ কর্মীরা। মেটাল ডিটেক্টর থাকবে প্রতিটি প্রবেশ পথে। নিজেদের মোবাইল ছাড়া কোনও কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অন্য কোনও ভারী জিনিস নিয়ে ঢুকতে পারবেন না সভাস্থলে।
তিনদিনের সফরে মুর্শিদাবাদে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং এমন একটি সময়ে যখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে জেলায় এসআইআর আতঙ্কে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে দু’'লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা জেলা। মঙ্গলবার ব্যারাক স্কয়ার ময়দানের হেলিপ্যাডে নেমে মুখ্যমন্ত্রী উঠেছেন সার্কিট হাউসে। এখান থেকে সভাস্থল পর্যন্ত রাস্তাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর আগের বারও স্টেডিয়ামে সভা শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী হেঁটে সার্কিট হাউস ফিরেছিলেন। আজ, বৃহস্পতিবারও তিনি জনসংযোগ করতে হাঁটবেন বলে সূত্রের খবর। সেই মতো পুলিশি ব্যবস্থা থাকছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রটোকল মেনেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাধারণ পোশাকেও পুলিশ নজরদারি চালাবে। মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেরকম বন্দোবস্ত করেছি।
জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলের কাজ আমরা খতিয়ে দেখছি। এক লক্ষেরও বেশি মানুষ আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী সার্কিট হাউস থেকে যে পথ দিয়ে মঞ্চে ঢুকবেন, সেই দিক দিয়ে আর কেউ ঢুকতে পারবেন না। সুষ্ঠুভাবে মানুষজন সকাল এগারোটা থেকেই মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করবেন।’ জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি ব্লক এবং বিধানসভা থেকে প্রচুর কর্মী সমর্থক বহরমপুরের স্টেডিয়ামে আসবেন। তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বাস এবং ছোট গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যতবারই মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জেলায় আসেন, প্রতিবারই যেন রেকর্ড ভিড় হয়। এবারও লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত করবেন। মুখ্যমন্ত্রী কি বার্তা দেন, আমরা সেদিকে তাকিয়ে।’