নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দু’রাত তিনদিনের সফরে মুর্শিদাবাদ আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বহরমপুরের ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামবেন। তারপর সার্কিট হাউসে বিশ্রাম নেবেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরে বহরমপুর থেকেই বুধবার দুপুরে মালদহে জনসভায় অংশ নেবেন। তারপর হেলিকপ্টারে করে ফের বহরমপুরে ফিরবেন। সার্কিট হাউসে রাত্রিবাস করার পর বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামে একটি জনসভা করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজনৈতিক জনসভা হলেও সার্কিট হাউসে থাকাকালীন তিনি প্রশাসনের শীর্ষকর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ঘোষণা হতেই বহরমপুর স্টেডিয়ামে এবং সার্কিট হাউসে এখন সাজসাজ রব। সার্কিট হাউসের পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ব্যারাক স্কোয়ার ময়দান। ঐতিহাসিক সেই ময়দানের চারিদিকে রয়েছে হাঁটার জন্য বিশেষ ট্র্যাক। মুখ্যমন্ত্রীর আসার খবর পেয়েই পুরসভার তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই ট্র্যাক মেরামত করা হচ্ছে। ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া সার্কিট হাউসের পাশের রেলিংয়ে রং করার কাজ শুরু হয়েছে। গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদে এসে বহরমপুর স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক সভা করার পরেই হেঁটে সার্কিট হাউসে ফেরেন। এবারও হঠাৎ করে যদি তিনি সেই পরিকল্পনা নেন, সেই জন্য আগেভাগে রাস্তার দু’ধারে থাকা সমস্ত সরকারি অফিসের পাঁচিল এবং স্ট্যাচু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে।
দফায় দফায় স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন হেলিপ্যাড পরিদর্শন করছেন জেলা তৃণমূলের নেতারা এবং জেলার পুলিশ প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিরা। বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, আমরা জনসভায় প্রায় এক লক্ষ মানুষের জমায়েত করার টার্গেট নিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী সভার জন্য জেলাবাসী মুখিয়ে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসবে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী যখন হেলিপ্যাডে নামবেন, তখন বহু মানুষ তাঁকে দেখার জন্য ব্যারাক স্কোয়ার ময়দানে ভিড় জমাতে পারেন। সেই জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি। নির্বিঘ্নে সভা করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসন ভীষণভাবে সহযোগিতা করছে। মঙ্গলবার বহরমপুর এসে তিনি এখান থেকেই বুধবার মালদহে সভা করতে যাবেন। তারপর ফের বহরমপুর এসে রাত্রিবাস করবেন। পরদিন আমাদের স্টেডিয়ামে সভা হবে।
জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, আমরা সকলেই দিদির আসার অপেক্ষায় রয়েছি। জঙ্গিপুর থেকে প্রচুর মানুষ আসবে। মঙ্গলবার দিদি যখন হেলিপ্যাডে নামবেন, তখনই অনেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য আসবেন। পাশাপাশি সভার দিন বহু মানুষ তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য সকাল সকাল এসে ভিড় জমাবে। আমরা কর্মীদের নিয়ে আসার জন্য গাড়ি ও বাসের বন্দোবস্ত করছি।