Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ কোটি রুদ্রাক্ষ দিয়ে চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপ

পুরাণ মতে সমুদ্রমন্থনের শেষে উঠে এসেছিল অমৃতকুম্ভ। তার আগে মন্থনে উঠে আসে হলাহল, যা পান করে নীলকণ্ঠ হয়েছেন মহাদেব।

৩ কোটি রুদ্রাক্ষ দিয়ে চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপ
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: পুরাণ মতে সমুদ্রমন্থনের শেষে উঠে এসেছিল অমৃতকুম্ভ। তার আগে মন্থনে উঠে আসে হলাহল, যা পান করে নীলকণ্ঠ হয়েছেন মহাদেব। সেই মহাদেবই রুদ্ররূপে বধ করেছেন ত্রিপুরাসুরকে। তখন তাঁর চোখ থেকে যে জল নির্গত হয়, তা থেকেই রুদ্রাক্ষের সৃষ্টি। পুরাণভিত্তিক এই কাহিনি এবার ফুটে উঠেছে চেতলা অগ্রণীর চোখ ধাঁধানো মণ্ডপে। শুধু তাই নয়, জন্ম শতবর্ষে বিশিষ্ট সাহিত্যিক সমরেশ বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে এই থিমভাবনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’। প্রসঙ্গত, এই নামেই রয়েছে প্রয়াত সাহিত্যিকের জনপ্রিয় উপাখ্যান। 

Advertisement

পুজো উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গোটা মণ্ডপ তৈরি করতে কাজে লাগানো হয়েছে প্রায় তিন কোটি রুদ্রাক্ষ। দেশের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি বিদেশ থেকেও আনা হয়েছে এই বিপুল সংখ্যক রুদ্রাক্ষ। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, নেপাল থেকে শুরু করে বারাণসী ও উত্তর কাশী থেকেও আনা হয়েছে লক্ষ লক্ষ রুদ্রাক্ষ। আর হাতেকলমে কাজ করে যাঁরা অনুপম সুন্দর মণ্ডপটির রূপ দিয়েছেন, সেই ২০০ জন শিল্পী এসেছেন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া জেলা থেকে। থিম রূপায়ণের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রখ্যাত শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছিলেন, ‘মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে দায়িত্ব নিয়ে ২০০ জন শিল্পীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাঁরাই মণ্ডপ তৈরির সব কাজ করছেন। বারাণসীর বেশ কয়েকজন সাধুর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি রুদ্রাক্ষ সম্পর্কিত নানা পৌরাণিক কাহিনি জানার জন্য। পুরাণে রুদ্রাক্ষ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। ত্রিপুরাসুরকে বধ করার সময় শিব অর্থাৎ রুদ্রের চোখ থেকে যে জল পড়েছিল, তা থেকেই রুদ্রাক্ষের সৃষ্টি। আমরা সেই কাহিনিকেই মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছি। সেই সঙ্গে রয়েছে সমুদ্রমন্থনের অনুষঙ্গ।’ মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘দুর্গাপুজো এখন আর শুধু বাঙালির উৎসব নয়। ইউনেস্কো দুর্গাপুজোকে ইনটেনজেবল হেরিটেজের সম্মান দিয়েছে। যার নেপথ্যে রয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো উপলক্ষে বাংলার গ্রাম থেকে আসা এক-একজন কারিগর তিনমাস পরিশ্রমের পর ৫০-৬০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, এর থেকে বড় উৎসব কী হতে পারে!’ 
চেতলা অগ্রণীর পুজো মানেই লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর মুগ্ধতা। বিগত বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে, উৎসবমুখর জনতার স্রোত চেতলা অভিমুখী। চেতলা অগ্রণীর কার্যকরী সভাপতি সব্যসাচী রায়চৌধুরী জানান, পুলিশের হিসেবেই গতবার তাঁদের পুজো দেখতে এসেছিলেন এক কোটি মানুষ। এবার সেই ভিড়ও ছাপিয়ে যাবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা। সোমবার রাতের প্রবল বৃষ্টি, তারপরেও মাঝেমধ্যে এক-দু’পশলায় বারবার ব্যাহত হয়েছে প্রস্তুতি। তারপরও রাতদিন এক করে কাজ করেছেন শিল্পী-কারিগররা। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপ খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শকদের জন্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ