লখনউ: চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচ মানেই চিপকের গ্যালারি জুড়ে হলুদের সমারোহ। ধোনিদের হোম গ্রাউন্ড বলে কথা। কিন্তু সোমবারের ম্যাচ তো ছিল একানা স্টেডিয়ামে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের ডেরা। অথচ সেখানেও আধিপত্য দেখা গেল হলুদ-আর্মির। আসলে ক্রিকেট জনতা যে এখনও মজে মাহি মোহে। তিনি টস করতে নামা মাত্রই ধোনি... ধোনি... শব্দব্রহ্ম তৈরি হয় মাঠে। তা দেখে মুচকি হাসেন ঋষভ পন্থ। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে অবশ্য শেষ হাসি হাসলেন সেই মাহি। মারমুখী মেজাজে মাত্র ১১ বলে ২৬ রান করেন ম্যাচের সেরা মাহি। ঝোড়ো ইনিংসে চারটি ৪ ও একটি বিশাল ছক্কা। অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গত শিবম দুবের। লখনউকে ৫ উইকেটে বশ মানিয়ে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল সেই চেন্নাই সুপার কিংস। আবেশ খানের শেষ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন শিবম দুবে (৪৩)। পাঁচ উইকেট হারিয়ে চেন্নাইয়ের রান ১৬৮।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে সেই ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন ঋষভ পন্থ। তাঁর অনবদ্য ৬৩ রানে ভর করেই লখনউয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৬৬। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই খলিলের বলে ক্যাচ দিয়ে ডাগ-আউটে ফেরেন আইডেন মার্করাম (৬)। আশা ছিল, দলে ফেরা মিচেল মার্শের সঙ্গে বড় পার্টনারশিপ গড়বেন দুরন্ত ফর্মে থাকা নিকোলাস পুরান। কিন্তু চতুর্থ ওভারে অংশুল কম্বোজের বলে লেগ বিফোর হন ক্যারিবিয়ান তারকা। পুরান (৮) ফিরতেই চেন্নাই জাঁকিয়ে বসে ম্যাচে। তবে ধাক্কা সামলে মিচেল মার্শ পাল্টা লড়াইয়ের চেষ্টা চালান। জাদেজার বলে ৩০ রানে বোল্ড হন মার্শ। কে ধরবেন হাল? ঋষভ তো ছন্দে নেই। তবে সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন অধিনায়ক। ৪৯ বলে করলেন ৬৩ রান। ছক্কা হাঁকিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। আসলে চালিয়ে খেলার মতো উইকেট ছিল না। বল থমকে আসছিল ব্যাটে। তাই তাড়াহুড়ো করা মানেই উইকেট ছুড়ে দেওয়া। ঋষভ ঝুঁকি নিতে চাননি। অধিনায়ক হিসেবে দলের স্কোর ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেন সতর্কতার সঙ্গে। মাঝে তাঁকে কিছুটা সঙ্গ দেন বাদোনি। চেন্নাই ইনিংসে দুরন্ত শুরু করেছিলেন রাচীন রবীন্দ্র (৩৭) ও রশিদ (২৭)। তবে রান পাননি রাহুল ত্রিপাঠি ও জাদেজা। চাপের মুখে হাল ধরলেন সেই ধোনিই।