নয়াদিল্লি: ঐতিহ্যের নীল অতীত। ক্রিকেটের পর গেরুয়াকরণ এবার ভারতীয় হকিতেও! আগস্ট মাসে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে আয়োজিত হকি বিশ্বকাপে ভারতের পুরুষ এবং মহিলা দল খেলবে গেরুয়া জার্সি পরেই। হকি ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বৃহস্পতিবার তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের জার্সি হঠাৎ গেরুয়া বা কমলা রঙের হয়ে যাওয়ায়। এবারও তেমনই সমালোচনার ঝড় আছড়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বীরেন রাসকুইনহাও তোপ দেগেছেন হকি কর্তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, ‘এটা খুবই লজ্জাজনক! আর্জেন্তিনা কি কখনো হোম জার্সির রং নীল-সাদার বাইরে অন্য কিছু ভেবেছে? ঐতিহ্যকে ভুললে চলবে না।’ আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক পারগত সিংও সমালোচনায় সরব হয়েছেন।
ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের চাপে এমনিতেই ব্যাকফুটে মোদি সরকার। এর মধ্যে ভারতীয় হকি দলের জার্সি রং বদল নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে বিরোধীদের হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করতে ছাড়েননি কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওরা ইউনিফর্ম বদলাতে পারে, শিক্ষানীতির মাধ্যমে দেশের ইতিহাস বদলাতে পারে, কিন্তু যুব সমাজ এই ব্যাপারে কী ভাবছে, সেটা আমরা সবাই দেখেছি। তাই যতই চেষ্টা করুক, এরা এ দেশের মূল্যবোধ কখনও বদলাতে পারবে না।’ কংগ্রেস সাংসদ অমর সিংয়ের কটাক্ষ, ‘আজ হকির সঙ্গে এরকম হচ্ছে, কাল সেনাবাহিনীর সঙ্গেও হতে পারে।’
ভারতীয় হকি দলের মূল স্পনসর ওড়িশা সরকার। যাঁর আমলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তিনি নবীন পট্টনায়েক। দেশের হকিকে নতুন উচ্চতায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা একসময়ের এনডিএ শরিক বিজু জনতা দলের সুপ্রিমোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনিও এদিন হকি জার্সির গেরুয়াকরণ ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘আর্জেন্তিনার নীল-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ, ঠিক তেমনই নীল জার্সি আমাদের পরিচয়। ওড়িশার বিজেপি সরকারের চাপেই জার্সির রং বদলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভবন, বাস, এমনকি ব্রিজ... রং বদলানো যে ওদের কাছে রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, গত দু’বছর ধরে গোটা ওড়িশা তার সাক্ষী। এখন সেই সরকারই আমাদের জাতীয় টিমের জার্সির রংও বদলে দিল।’
প্রবল চাপে পড়ে সাফাই দিতে বাধ্য হয়েছে হকি ইন্ডিয়া। তাদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক হকিতে যে টার্ফে খেলা হয় তার রং নীল। আর ভারতীয় দলের জার্সিও সেই এক রঙের। দুটো মিশে যাওয়ায় সমস্যা হয় খেলোয়াড়দের। সেই কারণে জার্সির রং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। গেরুয়া রং বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড় ও কোচেদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এমনকি এটাই প্রথমবার নয়, ২০১৪ সালে হলুদ রঙের জার্সি পরে খেলেছিল ভারতীয় হকি দল। পরে আকাশি নীল জার্সিও ব্যবহৃত হয়। তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলেনি! এবার দু’টি রংয়ের প্রস্তাব এসেছিল। হলুদের পাশাপাশি গেরুয়া। আমরা দ্বিতীয় রংটি বেছে নিয়েছি। কারণ, গেরুয়া রং শুধু প্রযুক্তিগত প্রয়োজনই পূরণ করে না, এটি ভারতের জাতীয় পতাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা সাহস, ত্যাগ ও গৌরবের প্রতীক।’ জার্সির রং বদলের সিদ্ধান্তে কোনো রাজনীতি নেই বলে দাবি করেছেন হকি দলের বর্তমান অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিংও। জানিয়েছেন, এসব বিতর্ককে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই।