Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীক্ষেত্রে চন্দনযাত্রা

অক্ষয় তৃতীয়া যেন তৃতীয়াদের রাজা। এই তিথির অনন্ত মহিমা। শাস্ত্রমতে, অক্ষয় তৃতীয়ায় স্নান, দান করলে অক্ষয় পুণ্যলাভ হয়।

শ্রীক্ষেত্রে চন্দনযাত্রা
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০০
Prefer us on Google

সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়: অক্ষয় তৃতীয়া যেন তৃতীয়াদের রাজা। এই তিথির অনন্ত মহিমা। শাস্ত্রমতে, অক্ষয় তৃতীয়ায় স্নান, দান করলে অক্ষয় পুণ্যলাভ হয়। সে পুণ্যের কখনও ক্ষয় হবে না। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব— সমস্ত সম্প্রদায়ের কাছে এই তিথি মণিকাঞ্চন যোগের সমান। অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে তাই ঘাটে-ঘাটে চলে স্নান, তীর্থে-তীর্থে চলে বিশেষ উৎসব। হিন্দু শাস্ত্র মতে বৈশাখী শুক্লা তৃতীয়ার দিন যে শুভ কাজ সম্পাদন হয় তা হয়ে ওঠে অক্ষয়। দীঘায় প্রভু জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠার জন্য এই দিনটিকে বেছে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের সমস্ত তীর্থক্ষেত্রের মতো শ্রীক্ষেত্রে অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।  

Advertisement

পুরীর জগন্নাথধামে অক্ষয় তৃতীয়া 
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই জগন্নাথ মন্দিরে শুরু হয় চন্দনযাত্রা উৎসব, সেইসঙ্গে শুরু হয় রথযাত্রার প্রস্তুতি। প্রথমে শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত সুপ্রাচীন জগন্নাথদেবের চন্দনযাত্রার প্রসঙ্গে আসা যাক। শ্রীক্ষেত্র জগন্নাথদেবের নিত্যলীলাস্থল। সেখানে নিত্য যাত্রা, ক্ষণে ক্ষণে মহোৎসব। সমস্ত মহোৎসবের মধ্যে চন্দনযাত্রা, স্নানযাত্রা, রথযাত্রা ও দোলযাত্রা প্রধান। বৈশাখ মাস মানেই সূর্যের চোখরাঙানি, গরমের দৌরাত্ম্য। জগন্নাথদেবের প্রতিষ্ঠাতা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন তাই ভেবেছিলেন, এই গরমে প্রভু জগন্নাথের বড় কষ্ট। কী উপায়ে তাঁর কষ্ট দূর করা যায়? কীভাবে গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রভুকে দেওয়া যায় খানিক স্বস্তি? জগন্নাথ তো ভাবগ্রাহী জনার্দন। তিনি ভক্তের ভাবভঙ্গি বুঝে নিয়ে রাজাকে স্বপ্নে দেখা দিলেন ও বললেন, ‘বৈশাখস্য সিতে পক্ষে তৃতীয়াক্ষয়সংজ্ঞিকা। তত্র মাং লেপয়েদ্‌ গন্ধলেপনৈরতিশোভনম্‌।।’ অর্থাৎ ‘বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষে যে অক্ষয় তৃতীয়া নামক তিথি আছে, সেদিন আমার অঙ্গে সুগন্ধি চন্দনের প্রলেপ দেবে।’ 
কিন্তু পৃথিবীতে এত সুগন্ধি বস্তু থাকতে চন্দনই দিতে হবে কেন? কারণ শ্রীবিষ্ণুধর্মোত্তরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা আছে, ‘অনুলেপনমুখ্যন্তু চন্দনং পরিকীর্তিতম্‌।’ অর্থাৎ যে সমস্ত বস্তু অনুলেপন বা প্রলেপ দেওয়ার কাজে লাগে, সে সবের মধ্যে চন্দনই শ্রেষ্ঠ। আবার নারদপুরাণেও আছে, ‘সমস্ত পুরাণে যে কথা লেখা আছে, পরমহংসশ্রেষ্ঠ শুকদেবও ঠিক সে কথাই বলেছেন, শালিধান থেকে উৎপন্ন অন্ন যেমন শ্রীহরির প্রিয়, তেমনই তুলসী এবং চন্দনও শ্রীহরিকে আনন্দ দেয়।’ সুতরাং ঠিক হল গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শ্রীজগন্নাথকে আরাম দিতে তাঁর শ্রীঅঙ্গে শীতল ও সুগন্ধী চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হবে। সেই যে বহুযুগ আগে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন চন্দনযাত্রার প্রচলন করলেন, তা এখনও যথাযথভাবে পালন করা হয়।  
চন্দনযাত্রার আরও এক নাম গন্ধলেপন যাত্রা। এই উৎসব ২১ দিন ধরে পালন করা হয়। জগন্নাথদেবের সেবকেরা জানান যে, এই উৎসব আসলে ৪২ দিনের। কিন্তু উৎসবকে ২১ দিন করে দুটি পর্বে ভাগ করে নেওয়া হয়। প্রথম পর্বের নাম ‘বাহির চন্দন’ এবং দ্বিতীয়টি পর্বটি ‘ভিতর চন্দন’ নামে পরিচিত। নাম শুনেই বোঝা যায় যে, প্রথম পর্বটি গর্ভমন্দিরের বাইরে অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয়টি গর্ভমন্দিরের ভিতরে পালিত হয়। পুণ্যার্থীরা সাধারণত চন্দনযাত্রা বলতে ২১ দিন ধরে চলা বাইরের অনুষ্ঠানটির সাক্ষী থাকেন। এই উৎসব অক্ষয় তৃতীয়ার দিন শুরু হয় এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে শেষ হয়। উৎসবের প্রধান কেন্দ্রস্থল নরেন্দ্র সরোবর, যাকে চন্দন পুকুরও বলা হয়। 
এই যে বাহির চন্দন উৎসব পালিত হয়, সেই উৎসবে জগন্নাথদেবের হয়ে যোগদান করেন তাঁর প্রতিনিধি বিগ্রহ মদনমোহন। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে প্রত্যেক অপরাহ্ণে জগন্নাথের প্রতিনিধি ঠাকুর মদনমোহন জগন্নাথের স্বরূপশক্তি দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীর সঙ্গে পালকিতে চেপে নরেন্দ্র সরোবরের তীরে উপস্থিত হন। জনশ্রুতি, আগে জগন্নাথের প্রতিনিধি বিগ্রহ ছিলেন গোবিন্দদেব। কিন্তু বারো ভুঁইয়াদের এক ভুঁইয়া ইতিহাসখ্যাত প্রতাপাদিত্য উৎকল জয় করতে এসে গোবিন্দদেবকে শ্রীক্ষেত্র থেকে নিয়ে যান এবং টাকির কাছাকাছি রায়পুরে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে চন্দনযাত্রায় গোবিন্দদেবের পরিবর্তে মদনমোহন অংশ নেন। শ্রীচৈতন্যদেবের দু’টি প্রামাণ্য জীবনীতেও চন্দনযাত্রা উৎসবে জগন্নাথের প্রতিনিধি বিগ্রহ রূপে গোবিন্দদেবের নাম পাওয়া যায়। 
মদনমোহন, লক্ষ্মী, সরস্বতী ছাড়াও অন্য একটি পালকিতে শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ এবং আরও পাঁচটি পালকিতে পাঁচ জন মহাদেবের বিগ্রহ নরেন্দ্র সরোবরের তীরে পৌঁছন। এই পাঁচজন শিব হলেন—লোকনাথ, যমেশ্বর, কপালমোচন, মার্কণ্ডেয়েশ্বর ও নীলকণ্ঠেশ্বর। এই পঞ্চশিবকে একত্রে পঞ্চপাণ্ডব শিব বলা হয়। এই পঞ্চশিবেরা হলেন ঠাকুর মদনমোহনের মন্ত্রী। কথিত আছে, স্বয়ং পাণ্ডবরা এই পঞ্চশিব স্থাপন করেছিলেন। জগন্নাথদেবের মন্দির চত্বরে কল্পবটের কাছে এই পঞ্চপাণ্ডব শিব অবস্থান করছেন। আর মদনমোহন, রাম-কৃষ্ণ বিগ্রহ জগন্নাথদেবের নাটমন্দিরের দক্ষিণদ্বার সংলগ্ন চত্বরে পূজিত হন। ২১ দিনব্যাপী ‘বাহির চন্দনযাত্রা’ উৎসবের চলাকালীন জগন্নাথদেবের মন্দির থেকে নরেন্দ্র সরোবর পর্যন্ত পথের নানা স্থানে সুসজ্জিত ছায়ামণ্ডপ তৈরি করা হয়। ঠাকুর মদনমোহন নরেন্দ্র সরোবরে যাওয়ার পথে এই ছায়ামণ্ডপে এসে খানিক বিশ্রাম করেন এবং জলযোগ করতে করতে সুমধুর ভক্তিগীতি শোনেন। চন্দনযাত্রা উপলক্ষ্যে নরেন্দ্র সরোবরে দু’টি নৌকা সুন্দরভাবে সাজানো হয়। নরেন্দ্র সরোবরে পৌঁছে একটি নৌকায় লক্ষ্মী, সরস্বতীর সঙ্গে মদনমোহন আরোহণ করেন এবং অন্যটিতে পঞ্চমহাদেবের সঙ্গে ওঠেন রাম-কৃষ্ণ বিগ্রহ। নরেন্দ্র সরোবরের মাঝখানে তিনটি মন্দির আছে। তার মধ্যে যেটা বৃহত্তম, সেই মন্দিরের মধ্যভাগে আছে একটি কূপ। সেই কূপের জলে মদনমোহন, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে স্নান করানো হয়। দ্বিতীয় মন্দিরে রাম-কৃষ্ণ বিগ্রহ অবস্থান করেন এবং তৃতীয় মন্দিরে পঞ্চশিব। চন্দনযাত্রা উপলক্ষে মন্দির সহ নরেন্দ্র সরোবরের চতুর্দিক আলোর মালায় সেজে ওঠে। সারাদিন সেখানে লোকে লোকারণ্য, মহাধুমধাম। 
সেদিনের মতো উৎসব সম্পন্ন হলে সমস্ত বিগ্রহ যে যার পালকিতে চড়ে আবার জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন। এইভাবে ২১ দিন ধরে ঠাকুর মদনমোহন সহ বিগ্রহগণ শ্রীমন্দির থেকে নরেন্দ্র সরোবরে উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রতিদিন শ্রীমন্দির রওনা দেওয়ার আগে মদনমোহন আলাদা আলাদা বেশ ধারণ করেন। যেমন— অক্ষয় তৃতীয়ার দিন নটবর বেশ, চতুর্থীর দিন শ্রীকৃষ্ণজন্ম বেশ, পঞ্চমী তিথিতে রাজাধিরাজ বেশ, ষষ্ঠীতে বনবিহারী বেশ, সপ্তমীতে বৎসহরণ বেশ, অষ্টমীতে গোমতীকৃষ্ণ বেশ, নবমীতে খটদোলি বেশ, দশমীতে চক্রনারায়ণ বেশ, একাদশীতে নৌ-কেলি বেশ, দ্বাদশীতে নটবর বেশ, ত্রয়োদশীতে শ্রীরাসমণ্ডল বেশ, চতুর্দশীতে কন্দর্পরথ বেশ, পূর্ণিমাতে অঘাসুরবধ বেশ, কৃষ্ণা প্রতিপদে রঘুনাথ বেশ, দ্বিতীয়াতে শ্রীচৈতন্য বেশ, তৃতীয়াতে গিরিগোবর্ধন বেশ, চতুর্থীতে গিরিধারী বেশ, পঞ্চমীতে বস্ত্রহরণ বেশ, ষষ্ঠীতে চিন্তামণিকৃষ্ণ বেশ, সপ্তমীতে গজউদ্ধারণ বেশ। এরপর অষ্টমীতে আর কোনও স্বতন্ত্র বেশ হয় না। চন্দনযাত্রার বিশতম দিনে পালিত হয় ‘ভাউরি’। অর্থাৎ বিগ্রহদের নৌকা বসিয়ে নরেন্দ্র সরোবরে ভ্রমণ করানো হয়। চন্দনযাত্রার শেষ দিনে দু’টি নৌকায় হলুদ জল ছিটিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
বৈশাখ মাসে চন্দনযাত্রা চলাকালীন শ্রীমন্দিরে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে চন্দন বেশ ধারণ করানো হয়। তারপর জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় স্নানযাত্রার দিন শীতল জলে স্নান করে প্রভু জগন্নাথ গরমের হাত থেকে পরিত্রাণ পান।  
শ্রীক্ষেত্রের চন্দনযাত্রার মহিমা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রীচৈতন্যের কারণে। চন্দনযাত্রার সময় শ্রীচৈতন্য শ্রীক্ষেত্রে থাকলে নরেন্দ্র সরোবরে উপস্থিত হয়ে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতেন। শ্রীচৈতন্যের দুই প্রামাণ্য জীবনী ‘শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ ও ‘শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবত’ গ্রন্থে মহাপ্রভুর চন্দনযাত্রায় অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘সেইকালে মহাপ্রভু ভক্তগণ-সঙ্গে। নরেন্দ্রে আইলা দেখিতে জলকেলি রঙ্গে।।’ দু’টি গ্রন্থের মধ্যে শ্রীল বৃন্দাবনদাস ঠাকুরের চৈতন্যভাগবতে সেকালের চন্দনযাত্রা উৎসবের বর্ণনা অত্যন্ত সজীব ও সরস। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য প্রাণবল্লভ শ্রীকৃষ্ণের নৌকাবিহার দেখবেন বলে ভক্তসঙ্গে নরেন্দ্র সরোবরে এসেছেন। হেনকালে গোবিন্দদেব, রাম-কৃষ্ণ বিগ্রহগণ জলকেলি করতে মন্দির থেকে সরোবরে চলে এলেন। তাঁদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বেজে উঠল শত শত শঙ্খ, ভেরী, মৃদঙ্গ, জয়ঢাক। চতুর্দিকের শোভা বাড়িয়ে তুলল শয়ে শয়ে ছত্র, চামর, পতাকা। সরোবরের তীরে কাতারে কাতারে ভক্ত। তাঁদের মুখে হরিবোল ধ্বনি, জগন্নাথের জয়-জয়কার। এছাড়া কান পাতলে আর কোনও শব্দই শোনা যায় না। এমন সময় নরেন্দ্র সরোবরের তীরে তুফান উঠল। হরিপ্রেমের তুফান! কারণ তখন ‘সচল জগন্নাথ’ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংকীর্তন শুরু করেছেন। সকলে আর যায় কোথায়! উপস্থিত ভক্তেরা মহাপ্রভুর সঙ্গে নর্তন-কীর্তনে মেতে উঠলেন। নরেন্দ্র সরোবর তখন বৈকুণ্ঠ সমান। সকলের হৃদয়ে প্রেমানন্দ উপচে পড়ছে। বিগ্রহদের নৌকায় করে জলবিহার করতে দেখে শ্রীচৈতন্য তাঁর পার্ষদদের নিয়ে নরেন্দ্র সরোবরে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন এবং ভক্তদের সঙ্গে জলকেলি করতে লাগলেন। এই অপরূপ দৃশ্য দেখে সকলের মনে হল—‘শুন, ভাই! শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-অবতার। যেরূপে নরেন্দ্রজলে করিলা বিহার।’ 
রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে জগন্নাথদেব আদেশ দিয়েছিলেন, ‘আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে সুভদ্রার সঙ্গে আমাকে ও শ্রীবলরামকে রথে আরোহণ করিয়ে নবযাত্রা উৎসব সম্পন্ন করবে। যে স্থানে আমি আবির্ভূত হয়েছিলাম, যে স্থানে তোমার সহস্র অশ্বমেধযজ্ঞের মহাবেদি রয়েছে, সেই গুণ্ডিচা মন্দিরে আমাকে নিয়ে যাবে।’ আষাঢ় মাসে রথযাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে গুণ্ডিচা মন্দিরে বা মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই। মাঘ মাসের বসন্ত পঞ্চমীর দিন শুরু হয় রথ তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করা। সংগৃহীত কাঠ দিয়ে কারিগরেরা অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জন্য তিনটি রথ তৈরির কাজে হাত দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ