


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ইপিএফ এবং ইএসআইয়ের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি আপাতত বিশ বাঁও জলে পাঠাচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এব্যাপারে সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ইঙ্গিতপূর্ণভাবেই জানাচ্ছে যে, উর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির আগে আওতাভুক্ত কর্মীদের ‘টেক হোম’ স্যালারির কথাও ভাবতে হবে।
এই মুহূর্তে ইপিএফওর আওতাভুক্ত যেসব বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের কর্মীর বেতন মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা, তিনি বাধ্যতামূলকভাবেই ইপিএফ পরিষেবা পান। একইভাবে কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগমের (ইএসআইসি) অধীনস্ত যেসব বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাসে সর্বাধিক ২১ হাজার টাকা বেতন পান, তিনিও বাধ্যতামূলকভাবেই ইএসআইয়ের পরিষেবা পান। সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করছে যে, ইপিএফের ক্ষেত্রে এই মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে অন্তত ২১ হাজার টাকা করতে হবে। ইএসআইয়ের ক্ষেত্রে তা করতে হবে মাসে অন্তত ২৫ হাজার টাকা। ইপিএফ এবং ইএসআই পরিষেবা বাধ্যতামূলকভাবে পেতে গ্রাহকদের মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হলে স্বাভাবিক নিয়মেই বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি কর্মচারী এর অধীনে চলে আসবেন।
সোমবার লোকসভায় এসংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মালা রায়। তিনি জানতে চান, ইপিএফ এবং ইএসআইয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকার করছে কি না। এরই নির্দিষ্ট জবাব এড়িয়ে গিয়েছে শ্রমমন্ত্রক। সোমবার লোকসভায় এব্যাপারে কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন সময় এই সীমার মান পরিবর্তিত হয়েছে। সেইমতোই পরবর্তী ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আবারও পরিবর্তন করা হবে কি না, তা আলোচনা সাপেক্ষ বিষয়। বিশেষ করে শ্রমিক সংগঠন এবং শিল্প সংস্থার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনিয়ে বিস্তারিত কথাবার্তা প্রয়োজন। ঊর্ধ্বসীমার মান পরিবর্তিত হলে কর্মীদের ‘টেক হোম’ স্যালারি এবং তাঁদের ‘হায়ারিং কস্ট’-এর উপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। উল্লেখ্য, ইপিএফের আওতাভুক্ত কোনো কর্মীর বেসিক স্যালারি এবং মহার্ঘ ভাতার সম্মিলিত যোগফল বৃদ্ধি পেলে নিয়মমতো তাঁর পিএফ কন্ট্রিবিউশনের পরিমাণও বাড়বে। অর্থাৎ, কন্ট্রিবিউশনের হার ১২ শতাংশই থাকবে। কিন্তু টাকার অঙ্ক পাল্টে যাবে। প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বাড়লে কমে যাবে ‘টেক হোম’ স্যালারির পরিমাণ। এমনই ব্যাখ্যা সরকার পক্ষের।