Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের বকেয়া ড্রেজিং ভর্তুকির দাবি নাকচ কেন্দ্রের

কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের প্রাপ্য ড্রেজিং ভর্তুকি আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। এভাবে রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্যায় ফেলতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের বকেয়া ড্রেজিং ভর্তুকির দাবি নাকচ কেন্দ্রের
  • ৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের প্রাপ্য ড্রেজিং ভর্তুকি আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। এভাবে রাজ্যের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্যায় ফেলতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ড্রেজিং ভর্তুকির বকেয়া টাকার পাশাপাশি ২০২৬সাল অবধি কলকাতা-হলদিয়া বন্দরকে ড্রেজিংয়ের জন্য নতুন করে টাকা বরাদ্দ হবে না। বন্দর শহরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন কেন্দ্রের এমন ভূমিকার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সম্প্রতি এক বৈঠকে বন্দরের ড্রেজিং ভর্তুকি বাবদ একদশকের বকেয়া ১০৬২কোটি টাকার দাবি নাকচ করে দিয়েছে মন্ত্রক। নদীবন্দর হওয়ায় জাহাজ চলাচলের জন্য রিভার চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হয়। নদীপথ, ডক এলাকা ও জেটিতে পলি তুলতে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়। ড্রেজিং করেই হলদিয়া বন্দরকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে। ফলে ড্রেজিং ভর্তুকি বন্ধ হলে বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পক্ষেত্র বিপাকে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই বন্দরে চারবছর অন্তর ড্রেজিং বাজেট হয়। ২০২০সালে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ মন্ত্রকের কাছে ড্রেজিং বাজেট পেশ করেছিল। ২০২৪সালের মার্চে সেই বাজেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। হলদিয়া বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার(প্রশাসন) প্রবীণকুমার দাস বলেন, এবছর নতুন ড্রেজিং বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় ড্রেজিংয়ের ভর্তুকি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। ফের সংশোধিত দাবি মন্ত্রকে পাঠানো হচ্ছে। সেই ‘রিভাইজড ক্লেম’ ইতিমধ্যে পোর্ট ট্রাস্টের বোর্ড মিটিংয়ে পাশ হয়েছে। সেই সংশোধিত দাবি ২০২৬সালের এপ্রিলে কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রকের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের(পিআইবি) কাছে জমা হতে পারে। ফলে ২০২৪-’২৫ ও ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ড্রেজিংয়ের জন্য নতুন বরাদ্দ মিলবে না। প্রবীণবাবু বলেন, ২০১২-২০২৪সাল পর্যন্ত বন্দরের ড্রেজিং বাবদ বকেয়া ১০৬২কোটি টাকার দাবি জাহাজ মন্ত্রকে নাকচ হয়েছে। হলদিয়া বন্দর লাভজনক হওয়ার কারণ দেখিয়ে এই দাবি নাকচ হয়েছে। বন্দরের এক আধিকারিক বলেন, ভর্তুকির বরাদ্দ যোগ করেই প্রতিবছর বন্দরের লাভের অঙ্ক দেখানো হয়। বন্দরের লাভের ৭০-৮০ শতাংশ টাকা ড্রেজিং ভর্তুকির বরাদ্দ। ভর্তুকি বন্ধ হলে ড্রেজিং মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। টাকার অভাবে ড্রেজিং ঠিকমতো না হলে হলদিয়া বন্দর এবং শিল্পাঞ্চল ক্ষতির মুখে পড়বে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ