নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নয়। ভারত-পাকিস্তান উভয়পক্ষ কথা বলেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। এমনকী, পাকিস্তান পরমাণু হামলা করতে পারে বলেও কোনও ইঙ্গিত ছিল না। প্রথামাফিক (কনভেনশনাল ওয়ার) যুদ্ধই হয়েছে। পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের দিক থেকেও পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনও হুমকি আসেনি। অপারেশন সিন্দুর সফল। সোমবার বিদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় সরকারের বক্তব্য জানিয়ে দিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। কিন্তু সাংসদদের অধিকাংশ প্রশ্নেরই উত্তর এড়িয়ে যান বিদেশ সচিব। কখনও নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কখনও বা অন্য মন্ত্রক বলতে পারবে বলে চুপ করে যান বিদেশ সচিব।
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের সভাপতিত্বে কমিটির কাছে অপারেশন সিন্দুর নিয়ে বিস্তারিত জানাতে এসেছিলেন তিনি। সাংসদদের সামনে বিস্তারিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন বিদেশ সচিব। বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাগরিকা ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কংগ্রেসের দীপেন্দর হুডা, মিমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, বিজেপির অপরাজিতা ষড়ঙ্গীর মতো মোট ২৩ সাংসদ।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি ইস্যুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গ ওঠে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থামিয়ে দেওয়া সহ ট্রাম্প যেভাবে পরের পর ভারতের প্রসঙ্গ তুলছেন, তা নিয়ে কেন ভারত সরকার চুপ? তুরষ্ক নিয়েই বা ভারতের অবস্থান কী? পাকিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ে ভারতের কত যুদ্ধবিমান নষ্ট হয়েছে? কেন পহেলগাঁওয়ে ঘটল জঙ্গি হামলা? কেন ইন্টেলিজেন্স ফেলিওর? ...সাংসদদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হল বিদেশ সচিবকে।
আর সেখানেই তিনি স্পষ্টভাষায় ট্রাম্পের ‘কৃতিত্ব’র কথা অস্বীকার করলেন। সংসদীয় কমিটির বৈঠকের বক্তব্য গোপনীয় হয়। তবুও এই প্রথমবার সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে খণ্ডন করল সরকার। বিদেশ সচিব জানিয়ে দিলেন, তুরষ্ক এবং পাকিস্তান—উভয়ের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক ভালো নয়। এবং এটা আজ নয়। অনেকদিন। যদিও তুরষ্কের সামগ্রীর নিষেধাজ্ঞার সোশ্যাল মিডিয়া খবর নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। যুদ্ধবিমান নষ্ট প্রসঙ্গেও জবাব দেননি। বলেছেন, এটা দেশের প্রতিরক্ষার বিষয়। বলা যাবে না। তাছাড়া এর জবাব দিতে পারবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারত ও পাকিস্তানের লড়াইয়ে ইসলামাবাদ চীনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল কি না? সেই প্রশ্নও তোলেন কমিটির সদস্যরা। সেই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি এড়িয়ে গিয়েছেন বিদেশ সচিব। এদিন বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, কাশ্মীরে কেন হল জঙ্গি হানা? কেন ইন্টেলিজেন্স ফেলিওর? যে চারজন জঙ্গি আমাদের ২৬ জনকে মেরে গেল, তারা কি ধরা পড়েছে? সরকার যে অপারেশন সিন্দুরে ১০০ জন জঙ্গি খতম করেছে বলে দাবি করছে, তার মধ্যে কি ওই চারজন আছে? যদিও যার কোনও জবাব বিক্রম মিস্রি দেননি। সবিনয়ে জানিয়ে দেন, এটা আমার বিষয় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলতে পারবে। সংঘর্ষবিরতির ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হন বিদেশ সচিব। বাধ্য হয়ে তিনি এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন। সোমবার কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে এর নিন্দা করেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি যেভাবে তিনি সামলেছেন, তার প্রশংসা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এক ভিডিও মন্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধীর তোলা প্রশ্নও ওঠে। কংগ্রেসের অভিযোগ, অপারেশন সিন্দুর হওয়ার আগেই পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়েছিল মোদি সরকার। যদিও বিদেশ সচিব সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বলেছেন, কাউকেই আগাম জানানো হয়নি। গত ৭ মে পাকিস্তানে প্রথমদিন প্রত্যাঘাতের পরেই বিদেশমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেছিলেন। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।