শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: দুর্ঘটনায় আহত হলেই এবার রাজ্যে মিলবে ক্যাশলেস চিকিৎসা। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কোনও ব্যক্তি যদি জখম হন, তাহলে তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে আর ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক ঝক্কির মুখে পড়তে হবে না। দ্রুত চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি জরুরি অপারেশন করে জখম ব্যক্তিকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হবে। কীভাবে এই সুবিধা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক করেছেন রাজ্য পুলিশের কর্তারা। এই সংক্রান্ত একটি এসওপি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে লাল ফিতের ফাঁসে আটকে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে না যায়।
পথ দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক সময়ই তড়িঘড়ি কোনও বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করতে হয় পুলিশকে। তখন প্রশ্ন উঠে যায়, চিকিৎসার টাকা কে দেবে? টালবাহানার কারণে বহু ক্ষেত্রেই চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায়। তার ফল ভুগতে হয় জখম ব্যক্তিকে। এই পরিস্থিতির পাকাপাকি সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকার গত মে মাসে একটি প্রকল্প চালু করে। তাতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় জখম ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে নিয়ে এলে ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। মিলবে সর্বাধিক দেড় লক্ষ টাকা। এর অতিরিক্ত বিল মেটাতে হবে জখম ব্যক্তিকেই। এর জন্য রাজ্যগুলিকে তাদের হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের তালিকা সহ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে বলা হয়। এই সুবিধাই এবার চালু হয়ে যাচ্ছে বাংলায়। কীভাবে এই প্রকল্প চালু হবে, কোন কোন বেসরকারি হাসপাতালকে রাখা হবে এবং জেলাওয়াড়ি কমিটিতে কারা কারা থাকবেন, সেই ব্যাপারে মুখ্যসচিবের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন পুলিশ কর্তারা।
পথ দুর্ঘটনায় জখম ব্যক্তিকে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে প্রথমে চিকিৎসকরা তাঁকে দেখে ঠিক করবেন, ভরতি করতে হবে কি না। যদি ভরতি নেওয়া হয়, তাহলে ‘পেশেন্ট আইডি’ তৈরির পর সেই তথ্য পুলিশকে দেওয়া হবে। যে থানার এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তারা এফআইআর নম্বর এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য তাতে জুড়ে আলাদা একটি ‘পেশেন্ট আইডি’ তৈরি করে কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করবে। রোড সেফটি কমিটির প্রতিনিধিরা সবকিছু পরীক্ষার পর দেড় লক্ষ টাকা অনুমোদন করবেন। এর জন্য তালিকাভুক্ত হাসপাতালেই ভরতি করাতে হবে রোগীকে। যদি সংশ্লিষ্ট জেলায় তালিকাভুক্ত হাসপাতাল না থাকে, তাহলে সেখানকার অন্য কোনও হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে ভরতির পর যাবতীয় নথি থানায় পাঠিয়ে দিতে হবে। কী কারণে তালিকার বাইরে থাকা হাসপাতালে ভরতি করানো হল, তার নোটশিট দিয়ে তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করলেও টাকা মিলবে। এমনকী বিমা নেই বা মেয়াদ ফুরিয়েছে, এমন গাড়ির ধাক্কায় কেউ আহত হলেও দেড় লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম ঠিকমতো চিকিৎসা করছে কি না, বা ভরতিযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও জখম ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি চালাবে জেলাওয়াড়ি কমিটি।