নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দু’বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। বার্ষিক চিকিৎসা খরচ প্রায় চার লক্ষ টাকা! সঙ্গে সংসার খরচ। বয়স্ক মা, স্ত্রী ও কন্যাসন্তান সহ চারজনের পেট চালানো। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি খুইয়ে দিশাহারা মারণ রোগে আক্রান্ত শিলিগুড়ির শিক্ষক স্বয়ংগম ভাওয়াল। তিনি এখন সংসার সামলে কীভাবে নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করবেন, তা ভেবেই কুল পাচ্ছেন না। ঋণের জালে জড়িয়ে পড়বেন বলেই তাঁর আশঙ্কা। তিনি এখন ন্যায় বিচারের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান। এজন্য আইনি সহায়তা চাইছেন।
শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে বাড়ি স্বয়ংগমের। তাঁর বাবা মিলন ভাওয়াল পেশায় কৃষক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রয়াত হন। এরপর থেকে সংসারের বোঝা চাপে স্বয়ংগমের কাঁধে। তাঁর পরিবারে সদস্য চারজন। ৬২ বছরের মা, স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে চাকরি খোয়ানোর খবর পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। বলেন, বাবার মৃত্যুর পর শিক্ষকের চাকরি পাই। পাঁচ বছর চাকরি করার পর হঠাৎ করেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হই। তিনমাস অন্তর অন্তর চিকিৎসার জন্য মুম্বই যেতে হয়। এই রোগের চিকিৎসা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় তিন থেকে চার লক্ষ টাকা।
এরবাইরে রয়েছে পরিবারের খরচ। তিনি বলেন, শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছি। এজন্য মাসে ইএমআই দিতে হয় প্রায় ২৮ হাজার টাকা। এছাড়া দেড় বছরের মেয়ের, মা ও স্ত্রী সহ সংসারের যাবতীয় খরচ জোগাড় করতে হয়। আমি ছাড়া সংসারে আর কেউ উপার্জনকারী নেই। মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। ধারদেনা করে টেনেটুনি চলছি। কাজেই এখন সংসার চালিয়ে নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
বিধাননগরের কুরবান আলি হাইস্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন স্বয়াংগম। বলেন, বিধাননগরের হাইস্কুল, শিলিগুড়ি কলেজ ও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। প্রতিটি স্তরেই আমার রেজাল্ট ছিল ভালো। ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসি। প্রথম কাউন্সেলিংয়ের পরই ২০১৮ সালে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিই। আমি অসৎপথে চাকরি পাইনি। নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি। গতবছর জুলাই মাসে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে মিলে ন্যায় বিচারের জন্য সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেছিলাম। সেখানে নিজের চিকিৎসার সার্টিফিকেট দাখিল করেছিলাম। তা হলেও
কেন চাকরি খোয়ালাম বুঝতে পারছি না।