Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

‘৪ দিন যেখানেই থাকি, প্রয়োজনে ফোন করুন’, অভয়বার্তা বিশিষ্ট চিকিৎসকদের

৯০ ছুঁইছুঁই নয়। একেবারে ৯০! তাতে কী? গ্রামের বাড়ির পুজোয় যাওয়ার জন্য উত্তেজনায় রীতিমতো ফুটছেন। যেন বছর ২৯-এর যুবক! মানুষটির নাম ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়। রা঩জ্যের সেরা ফিজিশিয়ান। শনিবার বললেন, ‘আজ সকালে রওনা হচ্ছি সুরুলে।

‘৪ দিন যেখানেই থাকি, প্রয়োজনে ফোন করুন’, অভয়বার্তা বিশিষ্ট চিকিৎসকদের
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৯০ ছুঁইছুঁই নয়। একেবারে ৯০! তাতে কী? গ্রামের বাড়ির পুজোয় যাওয়ার জন্য উত্তেজনায় রীতিমতো ফুটছেন। যেন বছর ২৯-এর যুবক! মানুষটির নাম ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়। রা঩জ্যের সেরা ফিজিশিয়ান। শনিবার বললেন, ‘আজ সকালে রওনা হচ্ছি সুরুলে। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ওখানেই থাকব। স্ত্রী, মেয়েও যাচ্ছে। বিরাট গেট টুগেদার। কোনও বছর বাদ যায়নি। তা বলে রোগীদের ফোন ধরব না, এমন নয়।’ এবার পুজোয় বিভিন্ন বয়সের নামকরা চিকিৎসকরা সাফ সাফ জানালেন, পুজোর সময় রোগীদের ফোন ধরেন না— চিকিৎসকদের সঙ্গে জুড়ে থাকা এই অপবাদ এবার তাঁরা ঘোচাবেনই। যে যেখানেই থাকুন না কেন, সারা বছর তাঁরা যেভাবে রোগীদের সঙ্গে ছিলেন, থাকবেন পুজোর সময়ও। প্রবীণ ফিজিশিয়ান সুকুমারবাবু বলছিলেন, ‘আমাদের মুখার্জিবাড়ির পুজো এবারে ২২৫ বছরে পড়ল। তবে কথায় আছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে। গ্রামের বাড়িতে গিয়েও ক’দিন রোগী দেখব। সবাই অপেক্ষায় থাকেন, কবে আসব। জানি, ক’দিন খাওয়াদাওয়ায় একটু অনিয়ম হবে। তবে বছরে একবার এই অনিয়ম স্বাগত!’ 

Advertisement

‘আমাদের আবার ছুটি কীসের? রোগীদের মধ্যেই আমাদের পুজো’— বলছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান তথা বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ। পঞ্চমীর দুপুরে বললেন, ‘এখনও হাসপাতালেই আছি। পুজো সবার কাছেই আনন্দের। হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি, তাঁদের কথা একবার ভাবুন তো!’ সৌমিত্রবাবু আরও বলেন, ‘বাকি সময় বাড়িতেই থাকব। ষাটের দশকের বাংলা গান বড় প্রিয় আমার। পুজোর ক’টা দিন শুনব। আর পছন্দের বইপত্র পড়ব। ঠাকুর দেখার ভিড়ে আমি যেতে পারি না। বরং এভাবেই ভালো থাকি।’ 
বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথ ডাঃ রথীন চক্রবর্তীও পুজোর ক’দিন থাকবেন হাওড়ার বাড়িতেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন। শনিবার বললেন, ‘বই পড়ব। গান শুনব। পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেব। খুব ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ তাঁদের পুজোয় যেতে নিমন্ত্রণ করেন। যদি পারি, এক-দু’জনের পুজোয় যাব। ভিড়ভাট্টায় যেতে ভালো লাগে না। তবে রামকৃষ্ণ মিশনের পুজো দেখতে প্রতিবারই যাই। এবারও যাব।’ রোগী দেখা কি বন্ধ? রথীনবাবু বলেন, ‘পুজোর ক’দিন ইমার্জেন্সি ছাড়া দেখি না। তবে কোনও জরুরি দরকারে রোগীরা ফোন করতে পারেন। নম্বর দেওয়াও থাকে। তাছাড়া টিম রয়েছে। আশা করি সমস্যা হবে না।’ 
বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোসার্জেন ডাঃ শুদ্ধসত্ত্ব সেন বলেন, ‘আমাদের তো রোগীময় জীবন। পুজোয় তাঁদের ছেড়ে দেব, এমন হয় নাকি! রোগীরা দরকার হলেই ফোন করেন। পুজোর ক’টা দিন রুটিনে ব্যালান্স করে নিই। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত প্ল্যানড অপারেশন করি। দুপুর ২টো থেকে রাত পর্যন্ত থাকে নিজের ও পরিবারের জন্য। বাড়িতে বন্ধুরা, কাছের মানুষজন আসেন। পুজোর ভিড় অপছন্দ করি। এভাবেই ভালো থাকি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ