Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

দেশের ৫০টি হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া ভরতির অনুমোদন বাতিল, বহু শূন্যপদ, শতাধিক ভূতুড়ে শিক্ষক, বাংলার ৩ প্রতিষ্ঠানেও নিষেধাজ্ঞা

ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিয়োপ্যাথির (এনসিএইচ) পরিদর্শনে উঠে এল দেশের হোমিয়োপ্যাথিক শিক্ষার চরম বেহাল দশা।

দেশের ৫০টি হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল  কলেজে পড়ুয়া ভরতির অনুমোদন বাতিল, বহু শূন্যপদ, শতাধিক ভূতুড়ে শিক্ষক, বাংলার ৩ প্রতিষ্ঠানেও নিষেধাজ্ঞা
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিয়োপ্যাথির (এনসিএইচ) পরিদর্শনে উঠে এল দেশের হোমিয়োপ্যাথিক শিক্ষার চরম বেহাল দশা। বর্তমানে দেশে ২৯৩টি হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ আছে। চালু কলেজের সংখ্যা প্রায় ২৬০।  শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনসিএইচের পরিদর্শনে ৫০টি কলেজে এ বছর ছাত্রছাত্রী ভরতির অনুমোদনই বাতিল করা হল। বাদ নেই বাংলাও। এখানকার তিনটি প্রাইভেট হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ছাত্র ভরতিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এনসিএইচ। সেগুলি হল হাওড়ার নিতাইচরণ, বর্ধমান, আসানসোলের হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ। পরিদর্শনে খামতি সামনে আসায় আরও তিন প্রাইভেট হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের আসন কমিয়েছে এনসিএইচ। সেগুলি হল মেট্রোপলিটন, পিসিএম ও সাঁইথিয়া। তিনটিতে যথাক্রমে ১০, ২০ এবং ২৪টি বিএইচএমএস আসন কমানো হয়েছে। 

Advertisement

বাংলার চার রাজ্য সরকারি এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান এনআইএইচ চলতি শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রী ভরতির অনুমোদন পেলেও তারা তা পেয়েছে শর্তসাপেক্ষে। মুচলেকা দিয়ে। ফলে রা঩জ্যের ১২টি হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ৬৯৬ স্নাতক আসনের মধ্যে এবার ২৬৪ আসন কমল এক ধাক্কায়। এনসিএইচ-এর মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট ও রেটিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ মঙ্গল জাঠকর এ সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশনামা জারি করেছেন। তবে এক মাসের মধ্যে এ নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এনসিএইচ, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে। আদালতে যাওয়ার রাস্তা তো খোলা আছেই।  
সামগ্রিকভাবে দেশের হোমিয়োপ্যাথিক কলেজগুলিতে পরিদর্শনে উঠে এসেছে ভূতূড়ে শিক্ষকের ছড়াছড়ির বিষয়টিও। অর্থাৎ যাঁদের কলেজে খাতায়কলমে নাম লেখানো আছে। কিন্তু কোনোদিন হাসপাতালমুখো বা কলেজমুখোই হন না!  মধ্যপ্রদেশের একটি প্রাইভেট কলেজে সর্বোচ্চ ১১ জন ভূতুড়ে শিক্ষকের খোঁজ পেয়েছেন এনসিএইচ অ্যাসেসররা। সংস্থার এডুকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশজুড়ে শতাধিক ভূতূড়ে শিক্ষকের খোঁজ পেয়েছি। সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের হাজিরার অবস্থাও তথৈবচ। আধার নির্ভর বায়োমেট্রিক হাজিরায় ৭৫ শতাংশ হাজিরা থাকা উচিত। কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হাজিরা বিচার করেও দেখেছি, তাও নেই।’ 
হোমিয়োপ্যাথির বিশিষ্ট অধ্যাপক ডাঃ শুভময় ঘোষ বলেন, ‘মূল সমস্যা শূন্যপদ। শিক্ষক, কর্মী সর্বত্র।’ জাতীয় প্রতিষ্ঠান এনআইএইচ-এর অধিকর্তা ডাঃ প্রলয় শর্মা বলেন, ‘শীঘ্রই শিক্ষক নিয়োগ হবে।’ যদিও এনআইএইচ-এর এক সূত্রের দাবি, পরিদর্শনের সময় ইউজি এবং পিজি পঠনপাঠনের জন্য আলাদা শিক্ষক ধরা হয়েছে। যদিও সে দাবি উড়িয়ে দিয়ে রজতবাবুরা জানান, যদি তাই হত, দেশে ৩০টির বেশি হোমিয়োপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এবারে পড়ুয়া ভরতিই করতে পারত না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ