নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোনো কিশোরী সন্তান প্রসব করতে হাসপাতালে এলে খবর দেওয়া হবে থানায়। পরিস্থিতি বুঝে কেস রেজিস্টার করতে পারে পুলিশ। নাবালিকা বিবাহ ও কিশোরী মায়েদের মৃত্যু ঠেকাতে এবার এমনই উদ্যোগ নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোনো কিশোরী সন্তান প্রসব করতে হাসপাতালে এলে খবর দেওয়া হবে থানায়। পরিস্থিতি বুঝে কেস রেজিস্টার করতে পারে পুলিশ। নাবালিকা বিবাহ ও কিশোরী মায়েদের মৃত্যু ঠেকাতে এবার এমনই উদ্যোগ নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, মাতৃ মৃত্যু ঠেকাতে গেলে সবার প্রথমে নাবালিকা বিবাহ বিয়ে রুখতে হবে। আর তার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার আরও বাড়াতে হবে। সমস্ত রকমের প্রয়াসের উপর জোর দিতে হবে।
গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর হার সারা রাজ্য জুড়েই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যারমধ্যে কিশোরী মায়েদের মৃত্যু স্বাস্থ্যদপ্তরকে সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে প্রশাসনের যাবতীয় প্রয়াস, যেমন সচেতনতামূলক প্রচার, গ্রেপ্তারি ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ভ্রুক্ষেপহীন সমাজ।
মন্ত্রীর কথায়, অজ্ঞতা এবং পারিবারিক দারিদ্রতা নাবালিকা বিয়ের অন্যতম মূল কারণ। তবে নাবালিকা বিয়ে রুখতে আমাদের প্রচার এবং প্রয়াসে আরও জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, নাবালিকা বিবাহ মাতৃ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল। নাবালিকা বিয়ে রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই হাসপাতালে কোনো কিশোরী মা সন্তান প্রসব করতে এলেই আমরা থানায় খবর দিচ্ছি।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, থানায় খবর দেওয়া মানেই কিশোরী মাকে হয়রানি করা নয়। কিশোরী মা যাতে সুস্থ ভাবে সন্তান প্রসব করতে পারে, তারজন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন, তার কোনোটিতেই খামতি রাখছেন না। তাহলে আমরা থানায় খবর দিচ্ছি কেন? হাসপাতালে কিশোরী মায়ের যেমন পরিচর্যা চলার তা চলবে। পাশাপাশি পুলিশ ওই কিশোরী মায়ের শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়িতে যাবে। পরিবারের লোকেদের নাবালিকা বিয়ে সম্পর্কে সচেতন করবে। এরফলে পাড়ার প্রতিবেশীদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি হবে। ওই স্বাস্থ্য কর্তা বলেন, থানায় জানালে একটা কেস রেজিস্টার হবে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও সচেতন হবে।