Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

আশ্বাস মুখেই, স্বাস্থ্যসাথী দুর্ভোগ চরমে, কেমো-ডায়ালিসিস শিকেয়, আতান্তরে মরণাপন্ন রোগীরা

১৪ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এখনই বন্ধ হচ্ছে না। আরও ২-৩ মাস থাকবে। ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিমা—তিনটেই একসঙ্গে চলবে।

আশ্বাস মুখেই, স্বাস্থ্যসাথী দুর্ভোগ চরমে, কেমো-ডায়ালিসিস শিকেয়, আতান্তরে মরণাপন্ন রোগীরা
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ১৪ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এখনই বন্ধ হচ্ছে না। আরও ২-৩ মাস থাকবে। ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ ও মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিমা—তিনটেই একসঙ্গে চলবে। উপভোক্তারা যখন নয়া দুই প্রকল্পে স্থানান্তরিত হবেন এবং কোনো পরিষেবায় অসুবিধা হবে না, তখনই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসাথী প্রত্যাহার করা হবে’। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিই সার। হাসপাতালে পরিষেবা চাইতে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর অসংখ্য উপভোক্তা দেখছেন, তাঁদের কার্ডই বন্ধ হয়ে গিয়েছে! অথচ, তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা চালু হয়নি। পরিস্থিতি এতই সংকটজনক যে, ক্ষোভে-দুঃখে হাসপাতালেই অনেকে কেঁদে ফেলছেন। অনেকে ফেটে পড়ছেন ক্ষোভে। কারণ, তাঁদের মধ্যে বহু রোগীর‌ কেমোথেরাপি চলছে। কারও চলছে ডায়ালিসিস। মুকুন্দপুর এলাকার এক঩টি বড়ো বেসরকারি হাসপাতালের কর্তা বলেন, ‘অ্যাডমিশন কাউন্টারে কর্মীদের পক্ষে বুঝতেও সমস্যা হচ্ছে, ঠিক কী করতে হবে। আর রোগীদের ভোগান্তি বলবার নয়। স্বাস্থ্যসাথীর বহু রোগীর অপারেশন রি-শিডিউল করতে হচ্ছে।’

Advertisement

ইছাপুরের বাসিন্দা অনিতা রায় বলছিলেন, ‘আমার স্বামী দীপক রায় ডায়ালিসিসের রোগী। কয়েক মাস আগে ওর ক্রনিক কিডনি ডিজিজ ধরা পড়ে। ২৮ মে থেকে বারাকপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ডায়ালিসিস শুরু হয়। তারপর থেকে ২০ আগস্ট, মানে বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত প্রায় ৩০ বার ডায়ালিসিস হয়েছে নিখরচায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে বলা হল, আপনার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা দেখছি আয়ুষ্মান কার্ড হয়েছে কি না। তারপর বলল, আয়ুষ্মান হয়নি। অ্যাপ্লাই করে দেখছি। ২৪ ঘণ্টায় আশা করি পেয়ে যাবেন। ২৪ ঘণ্টা পর সাইবার কাফেতে গিয়ে জানলাম, তখনও হয়নি। এরপর বলা হল, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিমা কার্ড নিশ্চয়ই হবে। আমাকে একটি ফর্মও দিল। সেটা আবার জমা দিতে হবে জেলাশাসকের অফিসে। বলুন, অসুস্থ স্বামী, এই অবস্থায় কার্ড করাতে দৌড়াব, নাকি স্বামীর চিকিৎসা করাব?’ অনিতাদেবী আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে নিয়ে সবসুদ্ধ ৮ জন রোগীর ওই প্রাইভেট হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথীতে ডায়ালিসিস চলছিল। একজন বাদে কারও নতুন কার্ড হয়নি। আমার মতো প্রায় প্রত্যেককে ১২৫০ টাকা খরচ করে প্রতিবার ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে।’ একই ভোগান্তির চিত্র রাজারহাটের টাটা মেডিকেল সেন্টারের সামনে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু রোগীর। অথচ, তাঁরা কেমোথেরাপির নির্ধারিত দিনে চলে এসেছেন। নতুন দুই কার্ডের কোনোটাই অ্যাক্টিভেট না হওয়ায় পকেট খসিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথার দাম কী? পূর্ব ভারতের বড়ো প্রাইভেট হাসপাতালগুলির সংগঠনের শীর্ষকর্তা রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘যেসব হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথীতে বেশি সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা করাত, সেখানে সমস্যা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্যভবনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি বলতেই হবে।’ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘সমস্যা হলে তার সমাধানও হচ্ছে ঝটপট। আসলে সমস্যা তৈরি করছে কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল। এসওপি সহ সব বিষয় জানানো আছে ওদের। তারপরও কেন রোগী ভোগান্তি হবে? ওদের কর্মী-আধিকারিকদের ফের ট্রেনিং দেওয়া হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ