Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

নার্সিংহোমে গিয়ে ৭২ ঘণ্টা অপারেশন করতে পারবেন না হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক

দালালরাজ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। অনেক সময় দেখা যায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মগজ ধোলাই করে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করানো হয়।

নার্সিংহোমে গিয়ে ৭২ ঘণ্টা অপারেশন করতে পারবেন না হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান:  দালালরাজ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। অনেক সময় দেখা যায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মগজ ধোলাই করে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করানো হয়। দালালরা বন্ধু সেজে ওয়ার্ডে গিয়ে তাঁদের বাইরে নিয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এক শ্রেণির চিকিৎসকও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীকে নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে সরকারি চিকিৎসক ৭২ ঘণ্টা অপারেশন করতে পারবেন না। স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু থাকবে। তবে ওই কার্ডের বাইরে কেউ নগদ টাকায় অপারেশন করলে সমস্যা নেই।

Advertisement

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার থেকে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। রবিবার বর্ধমানে তিনি বলেন, দালালমুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক মিনিট পরই রোগীকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের লোকজন বন্ডে লিখে দেন স্বেচ্ছায় তাঁরা রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন। আসলে সবই দালালের কেরামতি। হাসপাতালে ভর্তি হলে ৭২ ঘণ্টা সরকারি ডাক্তারবাবু বাইরে গিয়ে ওই রোগীর অপারেশন করবেন না। স্বাস্থ্যসাথী, আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম লাগু থাকবে। নগদ টাকায় করলে আপত্তি নেই। যদি কারও ইচ্ছে হয় তাহলে প্রথমেই রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে চলে যান। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিনামূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর হঠাৎ রোগীকে বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। 
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যেও অনেকে এই দালাল চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রবিবার মন্ত্রী জেলার দু’টি বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। কয়েকটি বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মী সংখ্যা কম রয়েছে। চিকিৎসকেরও ঘাটতি রয়েছে। তা ধাপে ধাপে মেটানো হবে। পূর্বস্থলী-১, কাটোয়া, মেমারি হাসপাতালে বেশকিছু গাফিলতি দেখা গিয়েছে। আগামী দিনে গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হবে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও সিটি স্ক্যান মেশিনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এখন রোগীরা সিটিস্ক্যান করতে এলে ছ’মাস পর সময় পান। আগামী দিনে এই সমস্যা থাকবে না। 
তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় রোগীর পাশে অকারণে বাড়ির লোকজন থাকেন। যাদের অপারেশন হয়েছে তাঁদের বাড়ির লোকজন থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু, অন্য রোগীর ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজন না থাকলেই ভাল। যাঁরা ওয়ার্ডে থাকেন তাঁরা মাঝেমধ্যেই বাইরে বের হন। তাঁদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ইনফেকশন ছড়ানার প্রবল সম্ভবনা থাকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ