Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করেই খুন ব্যবসায়ীকে, ব্যাগবন্দি দেহ উদ্ধারে নতুন তথ্য

রাতে ঠিকভাবে ঘুম আসতো না। তাই নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে হতো কলকাতার মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে ব্যবসায়ী খুনের কাণ্ডে ধৃত কৃষ্ণপাল সিং’কে।

ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করেই  খুন ব্যবসায়ীকে, ব্যাগবন্দি দেহ উদ্ধারে নতুন তথ্য
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাতে ঠিকভাবে ঘুম আসতো না। তাই নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে হতো কলকাতার মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে ব্যবসায়ী খুনের কাণ্ডে ধৃত কৃষ্ণপাল সিং’কে। পরিকল্পনামাফিক সেই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সে ব্যবসায়ী ভাগারাম দিওয়াসি’কে (৩০) প্রথমে অচেতন করে। তারপর তাঁকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে। ধৃতদের জিঙ্গাসাবাদ করে ঘোলা থানার পুলিস এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত খুন হওয়া ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন পুলিস উদ্ধার করতে পারেনি। খুনের কাণ্ডের পর ওই মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ফেয়ারলি প্লেসে শেষবার পাওয়া গিয়েছে। তাহলে কী মৃতদেহ ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? মৃতদেহ ফেলতে না পেরে মৃতের মোবাইল ওই জায়গায় সুইচ অফ করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করে তদন্তকারীরা এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে ঘোলার কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া খেপলির বিলের কাছে ক্যাব থেকে ব্যাগবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। ক্যাবের চালক রাহুল অধিকারীর উপস্থিত বুদ্ধির জেরে মৃতদেহ নিয়ে আসা করণ সিং হাতেনাতে পাকড়াও হয়। পুলিস দেখে পালিয়ে যাওয়া অপর অভিযুক্ত কৃষ্ণপাল সিং রাতে গ্রেপ্তার হয়। পুলিস তদন্তে জানতে পারে, রাজস্থানের জোড়াল এলাকার ব্যবসায়ী ভাগারাম মেছোয়া বাজার এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে ঝামেলা চলছিল কৃষ্ণপাল ও করণের। বকেয়া আট লক্ষ টাকা না পেয়ে বুধবার তাঁকে মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের ভাড়া বাড়িতে ডেকে খুন করা হয়। এরপর মৃতদেহ সেলোটেপ দিয়ে জড়িয়ে ব্যাগে ভরা হয়। সেই ব্যাগ হলুদ ট্যাক্সিতে চাপিয়ে প্রথমে নাগেরবাজার আনা হয়। এরপর অ্যাপ ক্যাব ভাড়া করে নাগেবাজার থেকে খেপলির বিলে এসেছিল কৃষ্ণপাল ও করণ। কিন্তু ব্যাগবন্দি দেহ ফেলার আগেই ক্যাব চালকের তৎপরতায় তারা ধরা পড়ে। 
সময় অনুযায়ী ঘটনাক্রম সাজাতে গিয়ে তদন্তকারীরা হোঁচট খাচ্ছেন। তাঁদের বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তকর বয়ান দিচ্ছে ধৃতরা। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের ধারণা, ব্যবসায়ীকে একাই খুন করেছে কৃষ্ণপাল। এরপর দেহ রেখে সে অন্যান্য দিনের মত ভাড়ার ঘর থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু ঘর থেকে ব্যাগবন্দি দেহ নিয়ে বেরিয়ে নাগেরবাজার পৌঁছতে কেন আড়াইঘন্টা সে ঘুরেছিল, তা স্পষ্ট নয়। এখানেই পুলিসের সন্দেহ সে দেহ নিয়ে ফেয়ারলিপ্লেসে গিয়েছিল। সেখানে মৃতদেহ ফেলতে না পেয়ে ব্যবসায়ীর ফোন ফেলেছে। এরপর করণকে সে সমস্ত কিছু জানিয়ে নাগেরবাজার আসতে বলেছিল। তবে দু’জনের বয়ানে এখনও অসঙ্গতি রয়েছে। তাই তাদের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া নাগেরবাজার পর্যন্ত যে হলুদ ট্যাক্সিতে এসেছিল, তার চালককেও জিঙ্গাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার খুন হওয়া ব্যবসায়ীর স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যরা রাজস্থান থেকে ঘোলা থানায় আসেন। তাঁরা ধৃতদের কঠোর সাজার দাবি জানান। 

সম্পর্কিত সংবাদ