Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

গুলজারপুরের বাংলো

ভূত প্রেত সব গল্পকথা। চল তো। চারদিকে পাহাড় ঘেরা। মাঝখানে পেল্লায় বাংলো। খাব দাব আর টাঙ্গা নিয়ে ঘুরব। খুব মজা হবে,’ বলে মিতুনের মা সুনন্দাদেবী আনন্দে নেচে উঠলেন।

গুলজারপুরের বাংলো
  • ২৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ আচার্য: ভূত প্রেত সব গল্পকথা। চল তো। চারদিকে পাহাড় ঘেরা। মাঝখানে পেল্লায় বাংলো। খাব দাব আর টাঙ্গা নিয়ে ঘুরব। খুব মজা হবে,’ বলে মিতুনের মা সুনন্দাদেবী আনন্দে নেচে উঠলেন। কিন্তু মিতুনের বাবা অভয়বাবুর সাংঘাতিক ভূতের ভয়। দমদম সব সময়েই গমগম করে। থাকেন একেবারে ঝকঝকে তকতকে ফ্ল্যাটবাড়িতে। পোড়ো পুরনো বাড়ি হলে ভূতের আনাগোনা হতে পারে। তাই অভয়বাবু আনকোরা ফ্ল্যাটবাড়ি কিনেছেন। তবু মনের কোণে একটা ভয়ভাব লুকিয়ে থাকে। সেই ভয়ের কথা অভয়বাবু কাউকে বলবেন কী! তিনি নিজেও তো সেই ভয়ের কথা ভেবে মনে মনে লজ্জা পান। যে লোকটার সাধের তেতলা বাড়ি ভেঙে এই ফ্ল্যাটবাড়ি উঠেছে, সেই লোকটার প্রেতাত্মা এখানে ঘোরাঘুরি করে না তো? গায়ের রক্ত জল করা টাকায় অত সাধের তেতলাবাড়ি। দেহত্যাগ করলেই কি সবাই বাড়ির মায়া ত্যাগ করতে পারে? রাতে তাই ফ্ল্যাটের কমন প্যাসেজে, লাউঞ্জে অভয়বাবু কিছুতেই যেতে চান না। এমনকী, রাতে লিফটেও একা ওঠেন না। এত যার ভূতে ভয়, তিনি কি না সাধ করে এককাঁড়ি টাকা খরচ করে যাবেন ভূতের রাজ্যে? যে শুনছে, সে-ই বলছে, ভূতের ডেরা। কিন্তু সুনন্দাদেবী এসব কিছুতেই শুনতে বা মানতে রাজি নন। তিনি গোঁ ধরেছেন, ওই গুলজারপুরেই যাবেন তিনি। মেয়ে মিতুনের ক্লাস এইট হবে। দু’বছর পরে মাধ্যমিক। দু’-তিন বছর আর বেড়ানো হবে না। তাই এই ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহটা তিনি ওই পাহাড়ঘেরা বাংলোতেই কাটাবেন। তাঁর যুক্তি হল, ‘ভূত যদি থেকেও থাকে, সে ভূত তো আর দিনের বেলায় দেখা দেবে না। আমরা তো সারাদিন ঘুরব। সন্ধের পর থেকে ঠান্ডায় এমনিতেই ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে ভূত ঢুকবে কোথা দিয়ে শুনি?’

Advertisement

অভয়বাবু বলেন, ‘ভূতের খপ্পরে একবার পড়লে বুঝবে। অচেনা অজানা জায়গা। সেখানে আমাদের উদ্ধার করবে কে?’ সুনন্দা দেবী দমে যাওয়ার পাত্রী নন। তিনি আরও যুক্তি দেখান। বলেন, ‘ওই বাংলোর কেয়ারটেকার, মালি ওরাও তো ফ্যামিলি নিয়েই আছে ওখানে। ওদের কি ভূত ঘাড় মটকে মেরে ফেলেছে? না গিলে খেয়ে নিয়েছে?’ শুনে মিতুন বলল, ‘বাবা, সত্যিই তো কেয়ারটেকার, মালি ওরা তাহলে ওখানে আছে কেমন করে? চল বাবা। মামা তো সব ব্যবস্থা করে দেবে বলেছে। চল চল। পাহাড়ি জায়গা। সারাদিন টাঙ্গা নিয়ে ঘুরে বেড়াব। খুব মজা হবে।’
বাংলোর কেয়ারটেকার আর মালির রেফারেন্সে কাজ হল। অভয়বাবু শেষতক নিমরাজি হলেন। মিতুনের মামা বাংলোটা বুক করে দিলেন। অভয়বাবু ট্রেনের আপ, ডাউন রিজার্ভেশন করিয়ে নিয়ে এলেন। ভাবলেন, ঠিকই তো... কেয়ারটেকার, মালি ওরা তাহলে ফ্যামিলি নিয়ে আছে কী করে? তাছাড়া একটা জায়গা, সেখানে মানুষেরও তো বসবাস আছে। তারা তাহলে আছে কেমন করে? পুলিস, প্রশাসন, দোকানপাট, বাজারহাট সব কি ভূতের ভয়ে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছে নাকি? অভয়বাবু মনে মনে বিবেকবাণী উচ্চারণ করলেন, ‘হে বীর সাহস সঞ্চার কর...।’ বাবাকে হঠাৎ সাহসী ও সক্রিয় হতে দেখে মিতুন খুশিতে নেচে উঠল।
কিন্তু ট্রেন সাতঘণ্টা লেট। গুলজারপুরে অ্যারাইভাল ছিল দুপুর বারোটায়। সেই ট্রেন কাঁই মাঁই কাঁই মাঁই করতে করতে স্টেশনে এসে থামল সন্ধে সাতটায়। ট্রেন থেকে কিন্তু নামলেন অভয়বাবুরা তিনজনই।  সন্ধে হয়ে গিয়েছে। অভয়বাবু যা ভেবেছিলেন, ঠিক তাই। প্ল্যাটফর্ম জনমানবশূন্য। পূর্ণিমা তাই, ঝিকিমিকি জ্যোৎস্নায় ভরে আছে চারদিক। কিন্তু মুশকিল হল স্টেশনে ওই চাঁদের আলোই ভরসা। ইলেক্ট্রিসিটির নামগন্ধ নেই। নাকি লোডশেডিং হয়ে আছে কে জানে? সুনন্দা দেবী বললেন, ‘একটু এগিয়ে গিয়ে দেখ না, একটা টাঙ্গা পাও কি না।’ সুনন্দা দেবীর কথা শুনে টিকিট কাউন্টারের দিক থেকে একজন এগিয়ে এলেন। বললেন, ‘কলকাতা থেকে মনে হচ্ছে?’ অভয়বাবু বললেন, ‘হ্যাঁ, কিন্তু ট্রেনটা এত লেট করল যে, এখন অন্ধকারে একটা টাঙ্গা কোথায় পাই বলুন তো?’
‘টাঙ্গা এখন আর পাবেন না। এটা ভূতুড়ে জায়গা মশাই। আবার সন্ধের পর! যাবেন কোথায়?’ লোকটার মুখে ভূতুড়ে জায়গা শুনে গলা শুকিয়ে গেল অভয়বাবুর। পাশ থেকে সুনন্দা দেবী বললেন, ‘আমরা এখানকার ওই বাংলো বাড়িতে যাব।’ লোকটা বলল, ‘সে তো অনেক দূরের রাস্তা। টাঙ্গা ছাড়া আজ রাতে সেখানে পৌঁছবেন কী করে? সে তো প্রায় মাইল তিনেক রাস্তা। আজ রাতে ওই বাংলো বাড়িতে যাওয়ার আশা ছাড়তে হবে। তারচেয়ে, আজকের রাতটা বরং স্টেশনের ওয়েটিং রুমেই কাটিয়ে দিন মশাই। কাল সকালে অনেক টাঙ্গা পেয়ে যাবেন।’ মিতুন সব শুনেটুনে বেশ ভয় পেয়ে গেল। সে মায়ের শাড়ি আঁকড়ে ধরল। ফিসফিস করে বলল, ‘মা আমার ভীষণ ভয় করছে।’ সুনন্দা দেবী মৃদু ধমক দিলেন। বললেন, ‘বোকার মতো ভয় ভয় করিস না। ভয়ের কিছু নেই। আমাদের বাঘে খাবে না। ভূতেও ধরবে না। শুধুমুদু ভয় পাস না।’ সুনন্দা দেবী লোকটাকে বললেন, ‘শুনুন, বাংলো বাড়িতে পৌঁছনোর কি কোনও উপায়ই নেই?’
লোকটা বলল, ‘ভেরি স্যরি টু সে ম্যাডাম, কোনও উপায়ই নেই।’
‘আচ্ছা, আমরা যদি হেঁটে যাই। একটু রাত হয় হবে। দিব্যি চাঁদের আলো আছে। অসুবিধে কী?’ লোকটা বলল, ‘মিথ্যে জেদ করবেন না ম্যাডাম। দিস ইজ নেক্সট টু ইমপসিবল। হেঁটে গেলে কত রাতে পৌঁছবেন, তার কোনও ঠিক আছে? জায়গাটার খুবই বদনাম, ভূতপ্রেতের উৎপাত লেগেই আছে। তবে সবই শোনা কথা। আমি বিশ্বাস করি না। তবু আপনাদের সাবধান করে দেওয়াটা আমি কর্তব্য বলে মনে করি। তাছাড়া হেঁটে যে যাবেন বলছেন, আপনাদের একটা বড় লাগেজ আছে দেখছি। ওটা টেনে নিয়ে যাবেন কী করে?’
‘কোনও কুলি-টুলি পাওয়া যাবে না?’
‘কুলি? কুলি আছে। তবে এখন ওরা কেউ যেতে রাজি হবে না। ব্যাটারা সব সন্ধেরাতেই ভূতের ভয়ে যে যার ঘরে সেঁধিয়ে গিয়েছে।’ সুনন্দা দেবী বললেন, ‘ওসব ভূতফুত আমি মানি না। মনের ভয়টাই ভূত।’
‘এই এটাই হল লাখ কথার এক কথা। আমিও তাই বলি ম্যাডাম। আমিও ভূত মানি না। যারা ভূত দেখেছে বলে, সেটা হয় গাঁজাখুরি গপ্পো আর নয় তো দৃষ্টিভ্রম।’ সুনন্দা দেবী বললেন, ‘ঠিক তাই। আমিও তাই মনে করি।’ লোকটা অভয়বাবুকে বললেন, ‘আপনি আসুন আমার সঙ্গে। দেখি কুলি ব্যাটাদের কাউকে রাজি করিয়ে পাঠাতে পারি নাকি।’ অভয়বাবু লোকটার সঙ্গে চলে গেলেন। মিতুন মাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। লোকটা যেতে যেতে অভয়বাবুকে বললেন, ‘আসল কথা কী জানেন? সন্ধের পর কেউ বড় একটা আসে না এখানে। গুলজারপুরের বদনাম হল, এটা ভূতুড়ে জায়গা। ওই মুখে মুখে রটে গিয়েছে আর কী। ইন ফ্যাক্ট ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই আমুদে। ভূতের ভয়ে বেশি লোকজনও ঘেঁষে না। একটু প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় মশাই। তবে জায়গাটা খুবই লোভনীয়। জলহাওয়ার জবাব নেই। পায়রার মতো খেয়ে গলা উঁচু করলেই ফের খিদে পেয়ে যাবে। আর এখানকার সিনিক বিউটি? আহা! কাল সকালে দেখবেন। দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে।’
অভয়বাবু লোকটার কথায় এটুকু বুঝলেন যে, ওই ভূত পাঁচালি আসলে স্রেফ ভয় ছাড়া আর কিছু নয়। 
কিন্তু কোনও কুলিই দরজা খুলল না। লোকটা বলল, ‘কুলি পেলেও হেঁটে যাওয়া খুবই অসম্ভব ব্যাপার। পথকষ্ট তো হবে আপনাদের। অনেকটা দূর। তার ওপর চড়াই উতরাই রাস্তা।’ সুনন্দা দেবী শুনে একেবারেই মুষড়ে পড়লেন। অভয়বাবু বললেন, ‘শীতের রাতে ওই ওয়েটিং রুমে পড়ে থাকো। তা-ও আলো নেই। লোডশেডিং।’ লোকটা বলল, ‘এই এক বিপদ এখানে। কারেন্ট একবার গেলে আর আসার নাম করে না। ওয়েটিং রুমে কাচের দরজায় খিল তুলে দিন। অসুবিধে হবে না। এছাড়া তো কোনও উপায় দেখছি না। আমারও তো ডিউটি শেষ। রাতে আর আপ ডাউনে কোনও গাড়ি নেই। ঝাঁপ বন্ধ করে এবার বাড়ি যাব। অভয়বাবু বলেন, ‘ওয়েটিং রুমে তো টয়লেট নেই। সঙ্গে স্ত্রী রয়েছে, বুঝতেই পারছেন।’
লোকটা বলল, ‘ আপনাদের কোনও আপত্তি না থাকলে আপনারা আমার কোয়ার্টারে আসতে পারেন। এই কাছেই আমার কোয়ার্টার। একটা তো রাত। কাল সকালে টাঙ্গা ধরিয়ে দেব। আসল কথা কী জানেন? আপনাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বাংলা বলে প্রাণটা জুড়ল মশাই। সারাদিন হাম তুম করতে করতেই দম বেরিয়ে যায়। চলুন বাড়ি গিয়ে একটু আড্ডা দেওয়া যাবে।’ 
অভয়বাবু ও সুনন্দা দেবী মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। সুনন্দা দেবী মাথা নেড়ে সায় দিলেন। লোকটা বললেন, ‘আমার নাম অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়। তবে এই নামে এখানে কেউ চিনবে না আমায়। স্টেশন মাস্টার, ওই হল আমার আইডেন্টিটি। রাস্তাঘাট, বাজারহাট সর্বত্র ওই মাস্টারবাবু।’ অভয়বাবু বললেন, ‘আমি অভয়চরণ দত্ত।’ অমূল্যধনবাবু এবারে যা বললেন, তারচেয়ে ওয়েটিং রুমে পচে মরা ঢের ভালো। অমূল্যধনবাবু বললেন, ‘একটি কথা আপনাদের না বললে অন্যায় হবে। আমার গিন্নির একটু মাথার অসুখ আছে। মানে মাথাটা একেবারেই গেছে। পাশের ঘরে বেঁধে রাখতে হয়। মাঝেমাঝেই চিৎকার করে ওঠে। ওতে আমল না দিলেই হল। আমরা আমাদের মতো আড্ডা দেব। এখন তো ভরা পূর্ণিমা চাঁদের আলোয় আমার ঘর ভরে থাকে। লোডশেডিংয়ে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হয় না। সব শুনে সুনন্দা দেবী পিছিয়ে গেলেন। বললেন, ‘না থাক তাহলে। রাতবিরেতে আপনাকে অসুবিধেয় ফেলতে চাই না। আমরা ওয়েটিং রুমেই থেকে যাচ্ছি।’ অমূল্যধনবাবু বললেন, ‘আমার অসুবিধে কিছু না। ওয়েল, অ্যাজ ইউ উইশ। ঠিক আছে। চলি তাহলে গুডনাইট।’ 
ওয়েটিং রুমে কাচের দরজা জানলা। চাঁদের আলোয় ঘর ভরে আছে। কিছুক্ষণ পরে একজন এসে ওয়েটিং রুমের দরজায় টোকা দিলেন। লোকটাকে দেখে পিলে চমকে গেল অভয়বাবুর। অদ্ভুত দেখতে লোকটাকে। রেলের ইউনিফর্ম পরা। অভয়বাবু দরজা খুলেলেন। লোকটা বলল, ‘আপনারা টাঙ্গা পাননি তাই তো?’ অভয়বাবু বললেন, ‘হ্যাঁ, পাইনি। তাই এই ওয়েটিং রুমে... যাব সেই বাংলোবাড়িতে।’ 
‘সে তো ঠিক আছে। কিন্তু, একটু রাত বাড়লে ভূতেরা আপনাদের এখানে টিকতে দেবে না মশাই। আপনারা আসুন আমার সঙ্গে। আমার জিপ আছে। আমারও বাড়ি ওদিকেই। আপনাদের নামিয়ে দিয়ে যাব।’ অভয়বাবু কিন্তু কিন্তু করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি?’
‘আমি এখানকার স্টেশন মাস্টার দীপক চৌবে।’ অভয়বাবু বললেন, ‘কিন্তু, অমূল্যবাবু যে বললেন উনি স্টেশন মাস্টার!’
‘ওহ, মাই গড! ইউ হ্যাভ অলরেডি মেট অমূল্যধন? ভেরি ট্র্যাজেডি। ওঁর স্ত্রী উন্মাদ। স্ত্রীর অত্যাচারে পাঁচবছর আগে বেচারি এই স্টেশনেই সুইসাইড করেন। হ্যাঁ, উনিই এখানকার স্টেশন মাস্টার ছিলেন।’ অভয়বাবুর গলা শুকিয় কাঠ। তিনি ককিয়ে ককিয়ে বললেন, ‘কী সাংঘাতিক! উনি ভূ ভূ ভূত!’
‘ভূত। তবে যথেষ্ট ভদ্র ভূত। আপনারা আসুন আমার সঙ্গে।’
তিন কিলোমিটার রাস্তা হাওয়ার উড়িয়ে নিয়ে এলেন স্টেশন মাস্টার দীপক চৌবে। পথে অভয়বাবু বললেন, ‘আপনি তো মশাই দারুণ বাংলা বলেন।’
‘আমি কলকাতায় পনেরো বছর ছিলাম তো।’ 
জিপে বসে ঠান্ডাটা বেশ মালুম হচ্ছিল। জ্যোৎস্না যেন দুধ ঢালছে। দূরের পাহাড় গাছপালা, রাস্তা সব দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। 
বাংলোয় পৌঁছে অভয়বাবু লাগেজ নামিয়ে নিলেন। দীপকবাবু গুডবাই করে জিপ নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
মালি বলল, ‘আসেন, আপনেরা ভেতরে আসেন।’ সুনন্দা দেবী বললেন, ‘জানো মালি, এই স্টেশন মাস্টার ভদ্রলোক আমাদের পৌঁছে না দিলে কপালে অশেষ দুঃখ ছিল।’ মালি বলল, ‘উনি স্টেশন মাস্টার ছিলেন। গতবছর জিপ অ্যাক্সিডেন্টে মারা গিয়েছেন। সঙ্গে তো এলেন। ওঁর হাতে যে দস্তানা পরা, তা লক্ষ করেছেন কি?’
অভয়বাবু বললেন, ‘আমি লক্ষ করেছি। প্রচণ্ড শীত। তাই দস্তানা পরে আছেন।’ মালি বলল, ‘তাই নাকি?’
অভয়বাবু বললেন, ‘হ্যাঁ,তাই তো!’ মালি এবার লণ্ঠনটাকে টেবিলের ওপর রেখে হাত দুটোকে আলোয় মেলে ধরে বলল, ‘দস্তানা খুললে দেখতেন, ঠিক এই রকম দুটো হাত বেরিয়ে আসত।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ