সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের অধীনে চারটি মন্দিরে প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপুজো হয়। বড়দেবী, বাণেশ্বর, ষাণ্ডেশ্বর ও কাঠামিয়া মন্দির। বড়দেবী ও মদনমোহন মন্দিরের ভিতরে থাকা কাঠামিয়া মন্দিরে মোষ বলি দেওয়া হয়। এবার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের অধীনে দুর্গাপুজোর মোট বাজেট ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ৮৪৬ টাকা। এর মধ্যে সব থেকে বেশি খরচ ধরা হয়েছে বড়দেবীর পুজোয়। এখানে খরচ হয় ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। বড়দেবী, কাঠামিয়া মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে মোষ বলি দিয়ে আসছিলেন অনুপ লায়েক। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। গতবার অসুস্থ থাকার জন্য তিনি বলির কাজ করতে পারেননি। তাঁর জায়গায় গোসানিমারির অপর একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারও তাঁকে ভাড়া করে আনা হবে বলে দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে।
কোচবিহারের মহকুমা শাসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এবার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের অধীনে সমস্ত দুর্গাপুজোর বাজেট ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ৮৪৬ টাকা। যা গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, প্রাচীন রীতি মেনেই মোষ বলি হবে।
কোচবিহারের মহারাজাদের চালু করা বড়দেবীর পুজোয় মোষ বলির প্রচলন রয়েছে। একইভাবে মদনমোহন মন্দিরের কাঠামিয়া মন্দিরেও মোষ বলি হয়। গোসানিমারি মন্দিরে মূর্তি দিয়ে পুজো না হলেও সেখানে মোষ বলির প্রথা রয়েছে। বড়দেবীর মন্দিরে মোষ ছাড়াও প্রায় ১০০টি পাঁঠা বলি হয়। কাঠামিয়া মন্দিরেও প্রায় ১৫টি পাঁঠা বলি প্রতিবছরই হয়। কোচবিহারের বড়দেবীর পুজোয় বহুকাল আগে নর বলি হতো বলে কথিত আছে। তা বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও এই পুজোয় মানুষের দেহ থেকে রক্ত দেওয়ার প্রথা চালু রয়েছে। পাশাপাশি মোষ, পাঁঠা সহ অন্যান্য বলি প্রথা চালু রয়েছে।