


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: ‘সরকারি পদে থাকাকালীন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের অসৎ আচরণের খবর উদ্বেগজনক। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব। আইন আইনের পথে চলবে।’ ভাই তথা প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারি নিয়ে এমনটাই বার্তা দিলেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। এবিষয়ে রাজার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন ওয়েলসের যুবরাজ উইলিয়াম ও যুবরানি কেট।
বৃহস্পতিবার উড ফার্মে অভিযান চালান প্রায় আটজন পুলিশ অফিসার। প্রত্যেকেই সাদা পোশাকে ছিলেন। বর্তমানে সান্ড্রিংহাম এস্টেটের এই বাড়িতেই থাকছিলেন অ্যান্ড্রু। ঘটনাচক্রে এদিনই ছিল তাঁর ৬৬তম জন্মদিন। বেশ কিছুক্ষণ অনুসন্ধান চালানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের সন্দেহ, সরকারি পদে থাকাকালীন অসৎ কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। যদিও, প্রায় ১২ ঘণ্টা হেপাজতে রাখার পর অ্যান্ড্রুকে মুক্তি দেয় পুলিশ। আয়লেশাম পুলিশ স্টেশন থেকে একটি গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে। দৃশ্যতই বিধ্বস্ত অ্যান্ড্রু গাড়ির পিছনের আসনে ঈষৎ হেলে ছিলেন।
অনেকেই মনে করছেন, এপস্টাইন ফাইল সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে অবশ্য সরাসারি অ্যান্ড্রুর নাম নেয়নি টেমস ভ্যালি পুলিশ। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘তদন্তে নেমে আজ নরফক থেকে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, সরকারি পদে থাকাকালীন অসৎ আচরণ করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে বের্কশায়ার ও নরফকের কয়েকটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃত ব্যক্তি বর্তমানে আমাদের হেপাজতে রয়েছেন।’ অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন, ‘সবদিক খতিয়ে দেখার পর তদন্তে নামা হয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়ার সততা বজায় রাখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে জনতার মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে। সময়মতো যাবতীয় তথ্য জানানো হবে।’
যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’র জেরে একাধিকবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন অ্যান্ড্রু। সদ্য প্রকাশিত ফাইলেও প্রাক্তন যুবরাজের আপত্তিকর ছবি সামনে এসেছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, বাণিজ্য দূত থাকাকালীন এপস্টাইনকে ব্রিটেন সংক্রান্ত গোপন নথি পাচার করেছিলেন অ্যান্ড্রু। ইতিমধ্যে এবিষয়ে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলেছেন টেমস ভ্যালি পুলিশ। অভিযোগের বহর এখানেই শেষ নয়। অতীতে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা করেছেন ভার্জিনিয়া জেউফ্রে নামে এর মহিলা। নাবালিকাদের সঙ্গে জোর করে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে তৃতীয় চার্লসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, অ্যান্ড্রুর কাছে ২০ বছর বয়সি এক কিশোরীকে পাঠিয়েছিলেন এপস্টাইন। বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ও ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ বারবার নাকচ করেছেন অ্যান্ড্রু। এবার কি তদন্তে সহযোগিতা করবেন তিনি? এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, ‘এটা পুলিশের বিষয়ে। ওরা তদন্ত করবে। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।’