Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কনের বয়স মাত্র বারো, বিয়ের আসরে পুলিস দেখে বিড়ি ফেলে দৌড় পাত্রের

পাত্রীর বয়স মাত্র ১২ বছর। পাত্র ২০ বছরের যুবক। তবে, বিয়ে করে সংসার করার উদ্দেশ্য ছিল না পাত্রের। পাত্রীর বাবার টাকা নিয়ে সৌদি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

কনের বয়স মাত্র বারো, বিয়ের আসরে পুলিস দেখে বিড়ি ফেলে দৌড় পাত্রের
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি:  পাত্রীর বয়স মাত্র ১২ বছর। পাত্র ২০ বছরের যুবক। তবে, বিয়ে করে সংসার করার উদ্দেশ্য ছিল না পাত্রের। পাত্রীর বাবার টাকা নিয়ে সৌদি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হল না। শনিবার রাতে বিয়ের আসরে পুলিসের হানা। ভাগ্যিস, বরের খুব বিড়ির নেশা চেপেছিল। আসর ছেড়ে বিড়ি ফুঁকতে চলে গিয়েছিল বাইরে। তা না হলে বরের পোশাকে শ্রীঘরে ঠাঁই হতো তার। পুলিস দেখে রূদ্ধশ্বাসে দৌড় বরের। ঘটনাটি খড়গ্রাম থানার মহিষাড় গ্রামের। পুলিস বরের বাবা, মা ও পিসিকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত ওই নাবালিকা। মাঝেমধ্যে স্কুলে যেত। বাবা-মা কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকেন। কাজ করেন রাজমিস্ত্রির। দিদিমার কাছেই লালিতপালিত হয়ে আসছে ওই নাবালিকা। দায় ছেড়ে ফেলতে গোপনে তার বিয়ের তোড়জোড় চালাচ্ছিল দিদিমার পরিবার। মাসদুয়েক আগে গ্রামেই পাত্র ঠিক হয়ে যায়। দু’পক্ষের পাক কথা হয়ে যায়। তাতে ঠিক হয়, বিয়েতে দেনা-পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। বিয়ের পর পাত্রের বাড়িতেও থাকবে নাবালিকা। তবে, ছেলেপুলে নিয়ে সংসার করা চলবে না। শ্বশুরবাড়িতে থেকেই লেখাপড়া চালিয়ে যাবে। আর পাত্র পণের টাকা নিয়ে সৌদিতে পাড়ি দেবে। কয়েকবছর পর বাড়ি ফিরে সংসার ধর্ম পালন করবে। সেই মতো বিয়ের আসর বসে। কিন্তু, বাধ সাধল পুলিস।
এদিন সন্ধ্যায় ওই গ্রামে নাবালিকার বাড়িতে গোপনে বিয়ের আসর বসেছিল। লোকজন তেমন ডাকা হয়নি। খাবার দাবারেও তেমন আয়োজন ছিল না। দু’পক্ষের হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে বিয়ে হচ্ছিল। দিদিমা দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিচ্ছিলেন নাবালিকা নাতনির। কিন্তু হঠাৎ করে বাড়িতে হানা দেয় পুলিস। সেইসময় কনের সাজে সজ্জিত নাবালিকা। তখন বর অবশ্য ছিল না। বিড়িতে টান দিতে বাড়ির পাশের একটা গলিতে চলে গিয়েছিল। পুলিসকে দেখেই ছুট। মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় সে। পুলিস নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে দেয়। গ্রেপ্তার করা হয় বরের বাবা, মা ও পিসিকে। শনিবার রাতেই পুলিস ওই নাবালিকাকে একটি হোমে পাঠায়। রবিবার ধৃতদের কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
নাবালিকার দিদিমা বলেন, ‘ভালো ছেলে পেয়েছিলাম। তাই এখন বিয়ে দিয়ে নাতনিকে লেখাপড়া শেখাতাম। জামাই পরে আরব থেকে বাড়ি ফিরলে ফের অনুষ্ঠান করতাম। তবে, আইনের বিষয়টি জানতে পেরে বুঝলাম, এটা অন্যায় করেছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ