Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মদের দোকানের সামনে যুবকের দেহ, পিটিয়ে মারার অভিযোগে ভাঙচুর

বিলেতি মদের দোকানের সামনে থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার তেতে উঠল পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি।

মদের দোকানের সামনে যুবকের দেহ, পিটিয়ে মারার অভিযোগে ভাঙচুর
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বিলেতি মদের দোকানের সামনে থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার তেতে উঠল পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি। পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে দাবি তুলে পাঁচ শতাধিক পুরুষ ও মহিলা মদ দোকান ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। সাঁওতালডিহি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দেহ তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ। যদিও পুরুলিয়া জেলা পুলিশের আধিকারিকরা লাঠিপেটার অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলের ঘায়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর। 

Advertisement

কাঁকী বাইপাস রোডের ধারে ওই মদের দোকানটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। মৃত যুবকের নাম সুরেশ বাউরি (৩৭)।  বাড়ি সাঁওতালডিহি থানার বগড়া এলাকায়। এদিন সকালে সুরেশকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে খবর। মদের দোকানের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর পর দোকান ঘিরে চলতে থাকেন তুমুল বিক্ষোভ। পুলিশ দেহ তুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। দাবি ওঠে মদ দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না  নিলে দেহ তুলতে দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। কিন্তু সমাধানসূত্র মেলেনি। উল্টে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়. রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখের নেতৃত্বে পাড়া থানার পুলিশ বাহিনীও চলে আসে। সঙ্গে আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরাও। আলোচনায় কাজ না হওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা একটু পিছু হটলে সুরেশের দেহ তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাতে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। দেদার ছোড়া হতে থাকে ইট-পাটকেল। তাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী কমবেশি আহত হন। শেষে দেহটি উদ্ধার করে পাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিশ। 
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই মদ দোকানের জন্য প্রতি বছর এলাকার একাধিক মহিলা বিধবা হচ্ছেন। যুব সম্প্রদায় নেশাগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা পিটিয়ে খুন করছে। দোকানটি বন্ধের দাবিতে এলাকার বুদ্ধিজীবী ও মহিলারা একাধিকবার আন্দোলন করেছে। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে আন্দোলনকারীদের মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। 
গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেশের বাবা বিদ্যুৎদপ্তরে চাকরি করেন। বর্তমানে তিনি বর্ধমানে কর্মরত। কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন সুরেশ। একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। সুরেশের বাবা চৈতো বাউরি বলেন, ‘ছেলেকে দোকানের ভিতর মারধর করা হয়েছে। তারপর সেখান থেকে টেনে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দোকানের ভিতর থেকে বাইরে টেনে আনার দাগও রয়েছে। ছেলের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ছেলের মোবাইলটিও পাওয়া যায়নি। দোকানে ভিতরে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, মহকুমার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, লাঠিচার্জের বিষয়টি ভিত্তিহীন। সেখানে থাকা কিছু ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়ছিলেন। তাঁদের হটাতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে এদিন দেহটি পুরুলিয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ