নিজস্ব প্রতিনিধি, অযোধ্যা: উত্সব হল, কিন্তু শিকার হল না। বুদ্ধ পূর্ণিমায় ঝরল না রক্ত। গত কয়েক বছরের মতো এবছরও অযোধ্যা পাহাড় শিকারহীন। বরং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা নিজেরাই শুকর, মুরগি কেটে রান্না করে খাওয়া দাওয়া করলেন। নাচ, গান, ধামসা-মাদলের বোলে কার্যত পিকনিকের মেজাজে ‘শিকার উত্সব’ পালিত হল অযোধ্যায়।
ফি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমায় অযোধ্যা পাহাড়ে প্রথাগত শিকার উৎসব করে থাকেন সাঁওতাল আদিবাসীরা। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই চলে আসছে এই প্রথা। আদিবাসী সমাজে ছেলে হয়ে জন্মেছে তো জীবনে একবার অযোধ্যায় শিকার উত্সবে যেতেই হবে, এমনটাই মনে করা হয় আজও। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া সহ পার্শ্ববর্তী জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ছাড়াও উত্সবে যোগ দিতে আসেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ। বুদ্ধ পূর্ণিমার রাতে জঙ্গলে প্রবেশ করেন আদিবাসীরা। তির-ধনুক, বল্লম, তলোয়ার, টাঙি, কুঠার নিয়ে রাতভর তাঁরা জঙ্গলে ঘুরে বন্য প্রাণী শিকার করেন। উৎসবে নিহত হয় বুনো শুয়োর, চিতল হরিণ, খরগোস ইত্যাদি। রাতভর চলে ঢালাও খানাপিনা। তবে, প্রশাসনের কড়াকড়ি, লাগাতার সচেতনতা প্রচারে শিকার উত্সবে রক্তপাত বন্ধ হয়েছে অযোধ্যায়।
শিকার উত্সবে যোগ দিতে আসা বুদু হেমব্রম, সনাতন মুর্মুরা বলছিলেন, এই উত্সব আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ। পাঁচ-ছ’ বছর আগেও আমরা জঙ্গলে ঢুকে শিকার করেছি। তবে প্রশাসনের তরফে বারংবার অনুরোধের পর আমরা শিকার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবছরও আমরা শুধুমাত্র উত্সব পালন করতেই অযোধ্যায় এসেছি। এদিন পাহাড়ে ছিল উত্সবের মেজাজ। প্রশাসনের তরফেও সবরকম সহযোগিতা করা হয়। উত্সবে যোগ দিতে আসা মানুষদের যাতে পানীয় জলের কোনও অসুবিধা না হয়, তারজন্য প্রায় ২০টি জায়গায় জলসত্রের ব্যবস্থা ছিল। বিলি হয়েছে জলের পাউচ। এদিন পাহাড়ের গড়ধাম বুরুমেলায় পুজো হয়। পুলিস প্রশাসনের অনেককে পুজো দিতেও দেখা যায়।
পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, শিকার উত্সব রক্তপাতহীন করতে আমরা প্রায় দু’-তিন মাস আগে থেকেই প্রচার করেছি। প্রায় দেড়শর বেশি সচেতনতামূলক কর্মসূচি করেছি। বনকর্মীরা সকলের বাড়ি, বাড়ি গিয়ে বন্যপ্রাণ হত্যা না করার আবেদন জানিয়েছেন। পুলিস, প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই মিলে এই উৎসবকে রক্তপাতহীন করার জন্য সার্বিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তার ফল আমরা পেয়েছি। এদিন প্রায় ৪০টিরও বেশি নাকা পয়েন্ট ছিল। অযোধ্যা পাহাড়জুড়ে প্রায় ৩০০ পুলিস কর্মী এবং প্রায় সাড়ে তিনশো বনকর্মী মোতায়েন ছিল।