নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপি কর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের ভোটার তালিকায়। দুই দেশেরই পরিচয় পত্র রয়েছে। অভিযুক্তের নাম সুব্রত মণ্ডল। তিনি স্বীকার করছেন, ২০০০ সালে বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে ভারতে চলে এসেছেন। তাঁর আরও দাবি, বিজেপি করার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বারাসত ১ নম্বর ব্লকের কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের হেমন্ত বসুনগরের বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল। কোনও রাখঢাক না রেখে তিনি স্বীকার করেছেন, এদেশে এসে প্রথমে মামার বাড়িতে ও পরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি ও পরিবার। পরবর্তীতে পড়াশোনার সুবাদে এদেশে ভোটার কার্ড আধার কার্ড, প্যান কার্ডের মতো সমস্ত নথি তৈরি করে ফেলেন। ২০১১ সালে কদম্বগাছি হেমন্ত বসুনগরে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করা শুরু করেন তাঁরা। দুই বোনের বিয়েও হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, একাধিক অসাধু উপায় অবলম্বন করে তিনি ভারতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করেছেন। প্রথম ভারতীয় ভোটার কার্ডে তাঁর বাবার নাম ছিল ফণী মণ্ডল। পরবর্তী সময়ে আদালতে এফিডেভিট করে ২০২৫ সালে তাঁর ভোটার কার্ডে বাবার নামের পরিবর্তন হয়। বাবার নাম হয় সুভাষ মণ্ডল। সুব্রতর বাবা সুভাষবাবু এখন অসুস্থ। তবে, কেন প্রথমদিকে শংসাপত্রে ভুল হয়েছে এ প্রশ্ন করতেই সদুত্তর দিতে পারেননি। সরকারি তথ্য বলছে, সুব্রতর বাবা সুভাষ ও মা বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। সেখানের ভোটার কার্ড আছে। পাশাপাশি ভারতীয় হিসাবেও তাঁদের সমস্ত প্রমাণ আছে। রয়েছে সমস্ত নথিও। এনিয়ে সুব্রত বলেন, ২০০০ সালে আমি চোরাপথে চলে আসি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। আমি ছোট ছিলাম তখনই ভারতে এসেছি অত্যাচারিত হয়ে। আমি বিজেপি করি বলে ফাঁসানো হচ্ছে। কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী মণ্ডল বলেন, বিষয়টি শুনলাম। যদি সত্যিই দুই দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।