সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিজেপি বনাম বিজেপি। জমে উঠেছে লড়াই। ইস্যু: কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’র গভর্নিং কাউন্সিলের নির্বাচন। (প্রশাসনিক) সচিব পদের দুই প্রার্থীই বিজেপির। জিতবেন কে? বিহারের রাজীবপ্রতাপ রুডি, নাকি উত্তরপ্রদেশের সঞ্জীব বালিয়ান?
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিজেপি বনাম বিজেপি। জমে উঠেছে লড়াই। ইস্যু: কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’র গভর্নিং কাউন্সিলের নির্বাচন। (প্রশাসনিক) সচিব পদের দুই প্রার্থীই বিজেপির। জিতবেন কে? বিহারের রাজীবপ্রতাপ রুডি, নাকি উত্তরপ্রদেশের সঞ্জীব বালিয়ান?
আচমকাই কেন বর্তমান সচিব রুডিকে সরাতে বিজেপির একাংশ উঠেপড়ে লেগেছে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। তবে কি একে একে অটলবিহারী বাজপেয়ি জমানার নেতাদের সাইডলাইন করতে চাইছেন মোদি-শাহ? আনতে চাইছেন নিজেদের লোককে? তাই বালিয়ানকে মাঠে নামানো হয়েছে? জোর জল্পনা সংসদের করিডরে। এই লড়াইয়ে তৃণমূল কী করবে, এখনও ভেবে উঠতে পারছে না। ভোট দেবে, নাকি বিরত থাকবে? যদিও ক্লাবের গভর্নিং কাউন্সিলের ১১ সাধারণ সদস্য পদের দাবিদারে প্রার্থী হাওড়ার তৃণমূল সাংসদ প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিহারের একবারের বিধায়ক, চারবার লোকসভা এবং একবার রাজ্যসভার সাংসদ তথা বাজপেয়ি জমানায় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাজীবপ্রতাপ রুডি বর্তমানে বিহার থেকে লোকসভার সদস্য। তাঁকে হারাতে প্রার্থী উত্তরপ্রদেশের মোদি জমানার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান। রুডি বাজপেয়ি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বালিয়ান মোদিপন্থী। বর্তমানে প্রাক্তন সাংসদ। আগামী ১২ আগস্ট কনস্টিটিউশন ক্লাবের ভোট। সেখানেই টক্কর উভয়ের। গভর্নিং কাউন্সিলের ১১ জন সাধারণ সদস্য। বাকি চারজন সচিব। এর মধ্যে সচিব (ক্রীড়া) পদে বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় জিতে গিয়েছেন কংগ্রেসের রাজীব শুক্লা। (সংস্কৃতি) সচিব পদে ডিএমকের তিরুচি শিবা। কোষাধ্যক্ষ ভারত রাষ্ট্র সমিতির প্রাক্তন সাংসদ জিতেন্দর রেড্ডি। কিন্তু (প্রশাসনিক) সচিব পদে লড়াই জারি।
এর আগে ২০০৯ সালেও একবার এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল রুডিকে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন বিজেপিরই বিজয় গোয়েল। তবে শেষমেশ রুডিই জিতে যান। তারপর থেকে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর যখনই নির্বাচন হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন জিতেছেন রাজীবপ্রতাপ রুডি। যদিও এবার তা কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বুধবার একান্ত আলাপচারিতায় রুডি বলেন, ‘মোট ১ হাজার ২০০ ভোটার। কে কাকে ভোট দেবেন, জানি না। তবে আমি সবাইকেই অনুরোধ করব। এতদিন একপ্রকার ‘আনঅপোসড’ জিতে গিয়েছি। এবার লড়াই হবে। কী করা যাবে।’
অন্যদিকে, সঞ্জীব বালিয়ান প্রাক্তন সাংসদ হলেও সংসদের করিডরে এসে কনস্টিটিউশন ক্লাবের সদস্য ভোটারদের মধ্যে নিজের ভোটপ্রচার করছেন। বলছেন, ‘ইসবার তো মুঝে মিলনা হ্যায়। আপ কা কেয়া সোচ হ্যায়?’ কেউ কেউ তো তাঁকে আগাম অভিনন্দনও জানিয়ে দিলেন। সংসদ ভবনের কাছেই রফি মার্গে এই কনস্টিটিউশন ক্লাব।