সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: মোনালি ঠাকুরের গানে ‘খুশির জোয়ার তুলে’ দুর্গাপুরে নীতিন নবীনের অনুষ্ঠানে জনজোয়ার চেয়েছিল বিজেপি। মঙ্গলবার তাদের সেই চেষ্টা কার্যত ফ্লপ!
সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: মোনালি ঠাকুরের গানে ‘খুশির জোয়ার তুলে’ দুর্গাপুরে নীতিন নবীনের অনুষ্ঠানে জনজোয়ার চেয়েছিল বিজেপি। মঙ্গলবার তাদের সেই চেষ্টা কার্যত ফ্লপ!
দুর্গাপুরের রাজীব গান্ধী ময়দানে ‘কমল মেলা’র প্রধান অতিথি ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলায় এটাই তাঁর প্রথম কর্মসূচি। সফল করতে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয়স্তরের নেতারা দুর্গাপুরে পড়েছিলেন। কিন্তু, তাতেও লাভ হবে না বুঝতে পেরে নামী সঙ্গীতশিল্পী মোনালি ঠাকুরকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। বিজেপির ফেসবুক পেজে চলে জোরদার প্রচার। মোনালির একটি ভিডিও পোস্ট করে সেখানে লেখা হয়, ‘খুশির জোয়ার তুলতে আসছেন মোনালি ঠাকুর।’ তারপরও গেরুয়া নেতাদের যাবতীয় উদ্যোগ জলে যায়। কারণ, এত কম লোক নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আগে দুর্গাপুর কবে দেখেছে, তা কেউ মনে করতে পারছেন না।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরে ‘কমল মেলা’র উদ্বোধন হয়। নবীনের সামনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় দেখাতে মোনালিকে নিয়ে আসা হয়। বিজেপির নেতারা ভেবেছিলেন, রথ দেখাও হবে, কলা বেচাও হবে। অর্থাৎ, মোনালির গান শুনতে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটবে। আর সেই মঞ্চকে পুরোদস্তুর ব্যবহার করবেন নতুন সভাপতি। কিন্তু, হল ঠিক উল্টোটাই। পাতলা ভিড় থেকে অনেকেই বললেন, সঙ্গীতশিল্পীর অনুষ্ঠান দেখতে এসেছেন। আবার বিজেপির নেতাদের বদান্যতায় আসা অনেক দর্শকই বলতে পারলেন না, দুর্গাপুরে কেন এসেছেন? তাঁদের একজন পূর্ব বর্ধমানের গলসির দুর্গা বাগদি। স্থানীয় বিজেপি নেতারা গাড়িতে করে তাঁকে নিয়ে এসেছেন। সেই দুর্গা বললেন, ‘জানি না কে আসছেন। শুনলাম বড় সংগীতশিল্পী আসবেন। নিয়ে এল, তাই এসেছি।’ বাঁকুড়ার মালিয়ারা থেকে এসেছেন ছায়া বাউরি। তাঁর কথায়, ‘দুপুর ১টা থেকে নিয়ে চলে এসেছে বিজেপির কর্মীরা। খাবারও দেয়নি। জানি না কখন বাড়ি ফিরব। কে আসছেন বলতে পারব না।’ বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থেকে গাড়িতে করে আনা হয়েছে ভজন বাউরিকেও। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা বরাবর সিপিএম করেছি। এখন বিজেপি করছি। ২০২১সা লে বিধানসভা ভোটে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেই বিজেপি আসনটা হেরেছিল। এবার বাউরি সমাজ থেকে প্রার্থী করা হোক।’
মোনালিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা চিনতে পারলেও তাঁদের অনেকেই নীতিন নবীনের নামই শোনেননি। অথচ, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতিকে তুষ্ট করতে রাজ্য বিজেপির নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দেখা গিয়েছে। নিজের এলাকা থেকে লোক এনে শক্তি প্রদর্শনেরও চেষ্টা হয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকায় ভিড় আশাপ্রদ হবে না বলে বিজেপির অন্দরের খবর। তাই মোনালিকে নিয়ে আসা হয়। দুর্গাপুরের বিভিন্ন জায়গায় মোনালির ব্যানারও দেখা যায়। কিন্তু কমল মেলায় দুর্গাপুরবাসীর তুলনায় বাইরের লোকই বেশি ভিড় করেছিল। তাই এই মেলা শিল্পাঞ্চলে বিজেপিকে কতটা সুবিধা দেবে, তা নিয়ে সন্ধিহান রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই। তাই শিল্পীদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে ওদের।’ যদিও দুর্গাপুরের বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের আয়োজিত প্রতিটি মেলা-খেলার অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নিয়ে নাচানাচি করা হয়। তাঁদের দিয়ে ঢালাও প্রচার করা হয়।’