Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি-কমিশন চক্রান্তে হয়রানি: মমতা, ‘বাদের তালিকা জানানোর দায় আমাদের নয়’, মন্তব্য সিইও’র

প্রথমে বাদ পড়েছিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটার। তার পরের দফায় আরও ৬ লক্ষ। খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্রই সেই পরিসংখ্যান ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

বিজেপি-কমিশন চক্রান্তে হয়রানি: মমতা, ‘বাদের তালিকা জানানোর দায় আমাদের নয়’, মন্তব্য সিইও’র
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথমে বাদ পড়েছিলেন ৫৮ লক্ষ ভোটার। তার পরের দফায় আরও ৬ লক্ষ। খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্রই সেই পরিসংখ্যান ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর এবার? সোমবার মধ্যরাতে প্রথম ‘বিচারাধীন’ তালিকা প্রকাশের পর থেকে শুধুই নিস্তব্ধতা। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও ধোঁয়াশা। ভোটপর্ব চলাকালীন কমিশনের এহেন খামখেয়ালিপনায় হয়রান ভোটাররা। কিন্তু কার নির্দেশে এই নিস্তব্ধতা? কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি অভিযোগ, ‘বিজেপি-কমিশন চক্রান্তেই ভোটারদের এমন চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।’ 

Advertisement

সোমবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল কমিশন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষার পর মধ্যরাতে একটি দায়সারা তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঠিক কতজন বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির পর ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে কিছুই বলছেন না কমিশন কর্তারা। উলটে কত নাম বাদ গিয়েছে, সেই তথ্য জানানোর দায় সরাসরি এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার তিনি সরাসরি বলেন, ‘কত নাম বাদ গিয়েছে বলতে পারব না। সেই হিসাব আমার কাছে নেই। এটা ওয়েবসাইটে আছে।’ পাশাপাশি এই অতিরিক্ত তালিকার সমস্ত দায় বিচারবিভাগের উপরই ঠেলেছেন মনোজ। বলেছেন, ‘এটা আমাদের ব্যাপারই নয়। বিচারকরা ই-সাইন করে যত নাম দেবেন, সেটাই আমরা তুলে দেব।’ রাজ্যে এসআইআরে নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও বলেন, ‘এত বড়ো তালিকা সম্পর্কে কমিশনই জানাতে পারবে।’ আরও জানা যাচ্ছে, শুক্রবার আরও একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ এই পর্বে কত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে, তা কমিশন নির্দিষ্ট কোনো কারণে জানাতে চাইছে না বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আর সেই কারণকেই ‘চক্রান্ত’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কমিশন-বিজেপি আঁতাত সবার কাছে স্পষ্ট, তাহলে আর পিছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি কেন? কেন মধ্যরাতে ব্লক এবং জেলাগুলোতে এখনও তালিকা টাঙানো হয়নি? মানুষ এখনও তাদের ভোটাধিকারের স্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়।’ তালিকা নিয়ে বিজেপি কমিশনের যৌথ চক্রান্তের অভিযোগ তুলে মমতার আরও প্রশ্ন, ‘কেন নির্বাচন কমিশন পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে? ঘোষণার পরও তালিকা প্রকাশে ৬-৭ দিন সময় কেন লাগল? এই সময়ে কি তালিকায় একটি নির্দিষ্ট দলের ভোটারদের যুক্ত করার কাজ হচ্ছিল? পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ মমতার সরাসরি আক্রমণ, ‘এই কমিশন-বিজেপি আঁতাত মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়। এই যন্ত্রণাদায়ক এসআইআরই হবে বিজেপি-কমিশনের আঁতাতের শেষ।’ তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে তাঁর দায়ের করা মামলার জন্যই বিচারক নিযুক্ত করে সন্দেহজনক বলে দাগিয়ে দেওয়া ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত তালিকায় যে নামগুলো যুক্ত করা হয়েছে, তা কেবল সুপ্রিম কোর্টে আমাদের মামলার ফলেই হয়েছে।’ 
নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, ‘বাম-ডান ভুলে যান। যাঁরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে, তাঁরা সবাই একজোট হোন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ