Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মহারাষ্ট্রে পুরভোটে বিজেপি জোটের বিশাল জয়, জোট না গড়ার মাশুল দিল ইন্ডিয়া শিবির

মহারাষ্ট্রের পুরসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী জোট না হওয়ার মাশুল দিতে হল ইন্ডিয়া জোটকে।

মহারাষ্ট্রে পুরভোটে বিজেপি জোটের বিশাল জয়, জোট না গড়ার মাশুল দিল ইন্ডিয়া শিবির
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রের পুরসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী জোট না হওয়ার মাশুল দিতে হল ইন্ডিয়া জোটকে। রাজ্যজুড়ে হওয়া ২৯টি পুরসভা ও কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজেপি জোট বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে জোট হয়েছিল একনাথ সিন্ধের শিবসেনার। এই জোটের লাভ সবথেকে বেশি হয়েছে। মুম্বই, নাগপুর, থানে, নাসিক, পুনে সর্বত্রই বিজেপি জোট বোর্ড গঠন করতে সফল হচ্ছে। বৃহন্মুম্বই পুরসভা ২৭ বছর পর উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনার হাতছাড়া হচ্ছে। জয়ের পর উৎফুল্ল মোদি মহারাষ্ট্রবাসীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এনডিএ-এর মানুষের স্বার্থবাহী নীতি ও সুশাসনের পক্ষে মানুষ রায় দিয়েছে।

Advertisement

ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস, শিবসেনা, এনসিপি (শারদ পাওয়ার) যদি বিগত লোকসভা নির্বাচনের ধাঁচেই জোট গঠন করে  নির্বাচন করত, তাহ঩লেই একঝাঁক পুরসভায় টক্কর হত। পুরসভা ভোটে মহারাষ্ট্রের দু‌ই বিচ্ছিন্ন পরিবারের মধ্যে মিলন হয়েছিল ভোটের দায়ে। শারদ পাওয়ার এবং ভাইপো অজিত পাওয়ার এবার জোট গঠন করেছিল। কিন্তু পুনে এবং পিম্পি ছিন্দওয়াড়ে তাদের জোট মুখ থুবড়ে পড়েছে। অথচ এই দুই পুরসভা এলাকাতেই তাদের শক্তি সবথেকে বেশি। এখানে বিজেপি জোট জয়ী হয়েছে। সুতরাং আগামী দিনে এনসিপি দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যথেষ্ট সংকটে পড়তে চলেছে। অন্য‌দিকে থ্যাকারে পরিবারের দুই জ্যাঠতুতো-খুড়তুতো ভাই উদ্ধব থ্যাকারে এবং রাজ থ্যাকারে বহু বছর পর আবার একজোট হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। তবুও এটা নিয়ে সংশয় নেই যে মুম্বই পুরসভার ভোটে উদ্ধব থ্যাকারে এখনও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব  বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছেন। মারাঠা ভোটব্যাঙ্ক এখনও মুম্বইয়ে উদ্ধবদের কাছেই রয়েছে। সুতরাং উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনা যে রাজনৈতিকভাবে ফিকে হয়ে যাচ্ছে, এমন বলা যাবে না। তাঁর ক্ষতি হয়েছে দুটি। রাজ থ্যাকারের সঙ্গে জোট হওয়ায় তাঁর লাভের তুলনায় লোকসান হয়েছে। কারণ অ-মারাঠি ভোটব্যাঙ্ক রাজ থ্যাকারেকে অপছন্দ করে। কংগ্রেসের সঙ্গে যদি উদ্ধবের জোট হত, তাহলে অ-মারাঠি ভোট পেতেন তিনি। কিন্তু রাজ থ্যাকারে সঙ্গী থাকায় ওই ভোট সবটাই প্রায় বিজেপি জোটের কাছে গিয়েছে। আবার অন্যদিকে, কংগ্রেস ২৯টি পুরসভাতেই গড়ে ২০ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে। সুতরাং যদি ইন্ডিয়া জোট হিসেবে লড়াই করা যেত, সেটি লাভদায়ক হত বিরোধীদের কাছে। অ-মারাঠি ভোট, বিশেষ করে উত্তর ভারতীয়দের ভোট বিজেপি জোটের কাছে যাওয়ায় প্রধান পার্থক্য হয়েছে। এই জয় বিজেপির কাছে একদিকে যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি রয়েছে সামান্য সতর্কতাও। কারণ, এত চেষ্টা করেও বিজেপি এককভাবে বৃহন্মুম্বই পুরসভা দখল করতে পারেনি। একনাথ সিন্ধের উপর নির্ভর করেই বোর্ড চালাতে হবে। যেহেতু অজিত পাওয়ারের দল এবার বিপর্যস্ত হয়েছে, তার জেরে একনাথ সিন্ধের দাপট আবার বাড়বে মহারাষ্ট্র এনডিএ জোটেও। সুতারং বিজেপির পূর্ণ স্বস্তি এল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ