সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: স্কুল মানে কোনও পাঁচিল ঘেরা জায়গা নয়। স্বাভাবিক পঠনপাঠনের বাইরে বেরিয়ে স্কুলের পরিবেশকে পড়ুয়াদের মনের মতো করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই স্কুলের প্রতি পড়ুয়াদের ভালোবাসা জন্মাবে। তারা নিয়মিত স্কুলে আসবে। এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল উদয়নারায়নপুরের বিরাজ লক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয়ে। হাতেনাতে ফলও পাচ্ছে তারা। উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়া ছাত্রীসংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এক সময়ে ৬৫তে নেমে যাওয়া ছাত্রীসংখ্যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২০০-এর কাছাকাছি।
১৯৫৮ সাল থেকে পথ চলা শুরু করেছিল উদয়নারায়ণপুরের বিরাজলক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয়। সতীশচন্দ্র দাস বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এক সময়ে এই স্কুলে ছাত্রীসংখ্যা ছিল ৭০০-এর কাছাকাছি। পরবর্তী সময়ে সেটি কমতে থাকে। ২০১৯ সালে সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় ৬৫তে। পূর্বতন প্রধান শিক্ষিকা অবসর নেওয়ায় তখন প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব নেন শ্রীঙ্কা রায়। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি ঠিক করেন, সতীশচন্দ্র দাসের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বালিকা বিদ্যালয়কে এইভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দিয়ে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ স্কুলটি শুরু থেকেই মহিলাদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে স্কুলের সহ শিক্ষক শিক্ষিকা, স্কুল পরিচালন সমিতির সদস্যদের নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা করেন তিনি। স্কুলে শুরু হয় স্মার্ট ক্লাসের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা, কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শারীর শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সহ নানা বিষয়।
এমন উদ্যোগের ফলে ধীরে ধীরে ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রীঙ্কা রায় বলেন, আমরা একটা জিনিস ঠিক করেছিলাম- সেটা হল স্কুলে ছাত্রীদের একঘেয়েমি কাটাতে হবে। সেইমত ছাত্রীদের নিয়মিত কাবাডি, খো খো খেলা, যোগাসন, ব্রতচারী শেখানো, আইসিটি ল্যাবে হাতেকলমে কম্পিউটার শেখানো, স্কুলে শিক্ণন মেলার আয়োজন, স্মার্ট ক্লাসে ডিজিটাল শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছাত্রীদের জন্য স্কুল চত্বরে দোলনা, ঢেঁকিও বসানো হযেছে। এরপর থেকেই স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আগামী দিনে ছাত্রীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন শ্রীঙ্কা রায়।
অন্যদিকে, স্কুলের এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকেরা। তাঁদের মতে, এখন স্কুলে নতুন পরিবেশে পড়াশুনা করতে পেরে স্কুলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে ছাত্রীদের।