Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে উশুতে পরপর তিনবার সোনা জয় ময়নাগুড়ির বিজয় বর্মনের

বাবা রাজমিস্ত্রি। মা গৃহবধূ। দিন আনা দিন দিন খাওয়া পরিবারে আর্থিক সমস্যা অনেক। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে রাজ্য উশু চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর তিন বছর সোনা জয় ময়নাগুড়ির বিজয় বর্মনের।

আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে উশুতে পরপর তিনবার সোনা জয় ময়নাগুড়ির বিজয় বর্মনের
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: বাবা রাজমিস্ত্রি। মা গৃহবধূ। দিন আনা দিন দিন খাওয়া পরিবারে আর্থিক সমস্যা অনেক। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে রাজ্য উশু চ্যাম্পিয়নশিপে পরপর তিন বছর সোনা জয় ময়নাগুড়ির বিজয় বর্মনের। ময়নাগুড়ি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড পেটকাটির বিজয় এখন ময়নাগুড়িবাসীর গর্ব। আগামীতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উশু খেলায় সোনা জয় করতে চায় সে। পাশাপাশি তার ইচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি করার। 

Advertisement

বিজয় বর্মনের বাবা বিল্টু বর্মন পেশায় রাজমিস্ত্রি। তার মা টুম্পা বর্মন গৃহবধূ। বিজয় এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ১০ বছর বয়স থেকে উশুর প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। তার প্রথম শিক্ষক ছিলেন শঙ্কর দাস। এখন সেই শঙ্কর দাসের ছাত্র দীপক বর্মনের কাছে প্রশিক্ষক নিচ্ছে বিজয়। 
২০২৩ সালে ১৮ তম রাজ্য উশু চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার পদক জয় করেছিল বিজয়। গত বছরও সোনা জয় করে সে। ২০২৫ সালের ২৮ এবং ২৯  মার্চ সল্টলেকে ২০ তম উশু প্রতিযোগিতার আসর বসেছিল। সেখানেও সোনার পদক জয় করেছে ময়নাগুড়ির এই পড়ুয়া। এছাড়াও জাতীয় স্কুল গেমসে সে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে। সেই প্রতিযোগিতার আসর বসেছিল দিল্লিতে। 
বিজয়ের প্রথম শিক্ষক শঙ্কর দাস বলেন, বিজয় বর্মনের আরও সাফল্য কামনা করি। এই খেলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক খেলোয়াড় যাতে সরকারিভাবে সহযোগিতা পায় সেই দাবি রাখব। তাদের চাকরির ক্ষেত্রেও সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হোক। 
বিজয় বলে, আমি খেলাধুলো চালিয়ে যেতে চাই। সেনা বাহিনীতে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ময়নাগুড়ির নাম উজ্জ্বল করতে চাই আমি। 
বিজয়ের বাবা বিল্টুবাবু বলেন, আমার শখ ছিল খেলাধুলো করার। কিন্তু আর্থিক সমস্যার জন্য পারিনি। আমার স্বপ্ন যেহেতু বাস্তবের রূপান্তরিত হয়নি সেকারণে ছেলেকে দিয়েই সেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতে চাই। বিজয়ের দাদু নন্দ রায় বলেন, সেনা বাহিনীতে চাকরি করতে চায় নাতি। কারণ ওই চাকরির মধ্য দিয়েই দেশ সেবা করা যায়। আমিও চাই নাতি সেনা বাহিনীতে যাক।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ