রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: কাউন্টডাউন শুরু পুজোর। ছুটির হিসেবও চলছে ক্যালেন্ডার মিলিয়ে। ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির প্ল্যান প্রায় শেষ। বেড়ানোর তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে রাজ্যের নানা অফবিট ডেস্টিনেশন। তবে আগ্রহ কম জম্মু-কাশ্মীরে।
রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: কাউন্টডাউন শুরু পুজোর। ছুটির হিসেবও চলছে ক্যালেন্ডার মিলিয়ে। ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির প্ল্যান প্রায় শেষ। বেড়ানোর তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে রাজ্যের নানা অফবিট ডেস্টিনেশন। তবে আগ্রহ কম জম্মু-কাশ্মীরে।
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয় ২৬ জন পর্যটকের। তারপর থেকে দেশের সেরা পর্যটন স্থল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মেঘ কাটেনি পর্যটকদের মধ্যে। শ্রীনগর, পহেলগাঁও সহ কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ছন্দে ফিরলেও, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় এখনও সেভাবে দেখা যায়নি। যার ছাপ এসে পড়েছে পুজোর বুকিংয়েও। একাধিক ট্রাভেল এজেন্ট সংস্থা বলছে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এ বছর পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের আগ্রহ কম। বুকিং তেমন আসেনি। তবে আমরা আশাবাদী, যেভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে সামনের বছর থেকে পহেলগাঁও সহ জম্মু-কাশ্মীর আবার পর্যটনের মানচিত্রে আগের জায়গায় ফিরে যাবে।
দৈনন্দিন কর্মজীবন থেকে ছুটি পেলেই বাঙালি ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন, এই তথ্য নতুন নয়। পুজোর ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই তৈরি করে রাখেন ভ্রমণ পিপাসুরা। ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পর্যটকদের তরফে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট সংস্থার কাছে যে সমস্ত আবেদন আসছে, তাতে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়ার আগ্রহ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্সের চ্যাপ্টার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত বলেন, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানার ঘটনার পর কাশ্মীর নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে ভয়-ভীতি সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায়নি। যে কারণে অনেকেই এখনও কাশ্মীর নিয়ে খুব একটা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। তবে জঙ্গিহানার রেশ কাটিয়ে উঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো হয়েছে এবং অনেকটাই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের আশা, এবছরের পুজো কেটে গেলে সামনের বছর থেকে কাশ্মীর আবার অন্যতম সেরা পর্যটন স্থল হয়ে উঠবে। ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার জাতীয় কমিটির সদস্য অনিল পাঞ্জাবি বলেন, কাশ্মীর নিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে যে আগ্রহ আমরা দেখছি, তাতে মার্কশিটে দশের মধ্যে খুব একটা বেশি নম্বর দেওয়া যাচ্ছে না। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তবুও পর্যটকদের কাছ থেকে পুজোর ছুটিতে দেদার ঘুরতে যাওয়ার আবেদন এখনও পাইনি। বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্টের চেয়ারম্যান সমর ঘোষ বলেন, কাশ্মীর নিয়ে পর্যটকরা তথ্য নিচ্ছেন, কিন্তু বুকিং ফাইনাল করে যাচ্ছেন না। অনেকটা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পর্যায়ে রয়েছে।
বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা বলছে, পুজোর ছুটিতে যে সমস্ত জায়গায় পর্যটকরা ঘুরতে যেতে পছন্দ করছেন, তার মধ্যে দেশের পরিধিতে রয়েছে গোয়া, রাজস্থান, কেরল। উত্তর ভারতের বেশ কিছু জায়গাও পর্যটকদের অন্যতম পছন্দ। মধ্যপ্রদেশ যেতে চাইছেন অনেকে। এছাড়া ছোট ট্রিপের প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ‘অফবিট ডেস্টিনেশন’ পছন্দ পর্যটকদের। কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক যাত্রা পথে ছোট ছোট জায়গায় নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন তৈরি হয়েছে। সেখানে হোম স্টে রয়েছে। সেগুলিতে পর্যটকদের আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড, ইউরোপ, ভিয়েতনাম যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন পর্যটকরা।