Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বাংলা পালটাবে না, পালটাবেন আপনারা!’ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষের আগেই নদীয়ায় জবাব অভিষেকের

রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে এসে বাংলায় ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

‘বাংলা পালটাবে না, পালটাবেন আপনারা!’ সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষের আগেই নদীয়ায় জবাব অভিষেকের
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া: রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে এসে বাংলায় ‘পাল্টানো দরকার’ স্লোগান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সেই ভাষণ শেষ হওয়ার আগেই নদীয়ার চাপড়ায় রোড শো থেকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঙ্কার, ‘বাংলা পাল্টাবে না, পাল্টাবেন আপনারা।’ তিনি বলেন, ‘যদি কেউ পাল্টায় বিজেপির নেতারা পাল্টাবেন। দিল্লির জমিদাররা পাল্টাবেন। বিজেপির কাছে সব আছে, শুধু মানুষ নেই। আগামী দিন মানুষ বিজেপিকে পঞ্চাশের নীচে নামিয়ে আনবে।’ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলি বিজেপির কাছে হারলেও ব্যতিক্রম বাংলা। তাই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বিজেপি বাংলাকে শাস্তি দিতে চাইছে বলে অভিযোগ তুললেন অভিষেক।

Advertisement

এসআইআরের শুনানিতে ডেকে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোয় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিন শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন অভিষেক। চাপড়ার শ্রীনগর মোড়ে ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেই ক্ষোভকেই আগামী নির্বাচনে ভোটবাক্সে বহিঃপ্রকাশ করার কথা বললেন অভিষেক। সেই আবেদনে করতালি দিয়ে সাড়া দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ। অভিষেক বলেন, ‘এমন পরিবর্তন হবে যে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মাটিতে এসে জয় বাংলা বলবেন। অঙ্গীকার নিলাম আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি বাংলার মানুষকে শাস্তি দিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পাল্টাতে চাইছেন। বাংলার মানুষ পাল্টাবে না। বাংলায় মানুষ দিল্লির জল্লাদদের কাছে মাথা নত ও বশ্যতা স্বীকার করবে না। যেভাবে আপনাকে হয়রানি করে কষ্ট দিয়েছে, একইভাবে বিজেপিকেও কষ্ট দিতে হবে। এরা যে ভাষা বোঝে সেই ভাষাতেই জবাব দিতে হবে।’

নদীয়ার শ্রীচৈতন্যের মাটি থেকেই বিজেপির বিদায়ঘণ্টা বাজানো এবং জনগণের আদালতে বিজেপিকে বন্দি করার বার্তা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, ‘উনি বৈধ, আমরা অবৈধ, এই তত্ত্ব চলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এসআইআর করুন না, কত দম দেখি। একমাত্র বাংলা এর বিরুদ্ধে লড়ছে।’

উল্লেখ্য, চাপড়া বিধানসভায় প্রায় ৪৭হাজার সন্দেহভাজন ভোটার নোটিস পাওয়ায় মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। এসআইআরের নামে বাংলার মানুষের মৌলিক অধিকার কাড়ার চক্রান্ত হচ্ছে বলে বিজেপিকে ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটি থেকেই বিজেপির ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কারকে ভাঙতে হবে। আমাদের বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বলে ওরা দাগিয়ে দিয়েছিল। আমাদের বাংলায় সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে, জোর করে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি।’ এমনকী বাংলার ভাগের চক্রান্ত নিয়ে লর্ড কার্জনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তুলনা করে বলেন, ‘লর্ড কার্জন বাংলাকে ভাগ করতে পারেনি। আপনারা তো কোন ছাড়।’

নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন সহ বিশিষ্টদের নোটিস পাঠানো নিয়ে এদিনও সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শ্রীচৈতন্যদেব বেঁচে থাকলে তাঁদেরও হয়তো নোটিস পাঠানো হতো।’ সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে দিল্লির বিজেপির সরকারের কাছে কাজের খতিয়ান চান অভিষেক। ১০০দিনের কাজ, বাংলার বাড়ি সহ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘২০১৪সালে প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডের সভায় এসে বাংলাকে লাড্ডু দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাংলাকে রসগোল্লা দিয়েছেন।’ অভিষেক বলেন, ‘আগামী ১৫দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার ২০লক্ষ মানুষের ছাদের ব্যবস্থা করে দেবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ