নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তাবিত ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন তৈরির অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি দিল্লির তরফে। তারপরও রাজ্য নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে ভুটান পাহাড়ে ৫৫টি রেনগেজ স্টেশন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে যথা সময়ে ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য হাতে পাওয়া যায়। সেই তথ্য পাওয়া গেলে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব। সাম্প্রতিক অতীতে বারবার দেখা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টিপাতের ঘণ্টা চারেকের মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে আসছে প্রবল জলস্রোত। তাতে বানভাসি হচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট করে দেওয়া এলাকায় এই রেনগেজ স্টেশনগুলি স্থাপন করা গেলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সংক্রান্ত তথ্য আগেভাগে পাওয়া যাবে। সেই মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে প্রশাসন।
ইতিমধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে তিস্তার ভয়াল রূপ। প্রতি বছরই তোর্সা, জলঢাকা সহ ভুটান পাহাড়ে থেকে নেমে আসা নদীগুলির জলে বানভাসি হয় আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার। এই অবস্থায় ইন্দো- বাংলাদেশ রিভার কমিশন, ইন্দো-নেপাল রিভার কমিশনের মতো ইন্দো- ভুটান রিভার কমিশন গঠন করতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপর হওয়া উচিত বলে মনে করছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। সেই প্রসঙ্গেই এসেছে ভুটান পাহাড়ে ৫৫টি রেনগেজ স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভারতের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল ভুটানে। সেই দলে ছিলেন জলশক্তি মন্ত্রক, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচদপ্তরের পদস্থ কর্তারা। সূত্রের খবর, সেখানেই ৫৫টি রেনগজ স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় ছ’টি রেনগেজ স্টেশন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য। তবে ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন থাকলে এই কাজ অনেক সহজ হতো বলে জানিয়েছেন মানসবাবু।



