


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিজেপি! সংসদে মোদি সরকার স্বীকার করে নিল যে, চামড়া শিল্পের কাজকর্মে এগিয়ে বাংলা। তাই বাংলার মডেল গ্রহণ করুক অন্য রাজ্যগুলি। অনুকরণ করুক কেন্দ্রও। সংসদে পেশ হয়েছে এমনই রিপোর্ট। বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সেই রিপোর্ট মেনে নিয়েছেন বিজেপি সাংসদরাও। নিশিকান্ত দুবে, ভগবত কারাড, অতুল গর্গদের মতো বিজেপির ২০ জন সাংসদ এই কমিটির সদস্য। তাঁদের কেউই এই রিপোর্টের একটি লাইন নিয়েও আপত্তি তোলেননি। তাই সর্বসম্মতভাবে বুধবার বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির তিনটি রিপোর্ট পেশ হয়। রিপোর্টে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি টাকার মূল্য পতন, রান্নার গ্যাসের সঙ্কট পরিস্থিতির জন্য মোদি সরকারের বিদেশ নীতিকেও দায়ী করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, কোনো ক্ষেত্রেই রিপোর্টের বিরোধিতা করেননি কমিটিতে থাকা বিজেপি সাংসদরা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত-মার্কিন চুক্তির বিষয়টি ফের পর্যালোচনা করা উচিত। তার পরেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। খাদ্যশস্য এবং চিনির প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রেও প্লাস্টিক বাদ দিয়ে ১০০ শতাংশই চটের বস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে শিবরাজ সিং চৌহান এবং গিরিরাজ সিংকে চিঠিও দিয়েছেন কমিটির চেয়ারর্পাসন দোলা সেন। তাঁর মতে, এর ফলে বাংলার প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি সবার স্বাস্থ্যের উপর কোনো কুপ্রভাব পড়বে না। ভারতীয় উৎপাদনে জোর দিলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পও কার্যকর হবে।
সূত্রের খবর, বিজেপি সাংসদ রমেশ অবস্তি কমিটির বৈঠকে খোলা মনে জানিয়েছিলেন, দূষণের কারণে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের চামড়া শিল্প প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বানতলা লেদার কমপ্লেক্সের কাজ অনেক ভালো। তামিলনাড়ুও ভালো কাজ করছে। ব্যবসার সুযোগ সহজ করতে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম এই দুই রাজ্যে অত্যন্ত কার্যকর। দূষণ রোধে কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি)র কাজও প্রশংসনীয়। তাই ‘সুযোগ বুঝে’ সরাসরি না হলেও কানপুরের বিজেপি সাংসদের ওই বক্তব্যকে ‘কৌশলে’ সংসদে পেশ রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর প্রশংসীয় কাজের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করিয়েছেন দোলা সেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভোটমুখী দুই অবিজেপি শাসিত রাজ্যের প্রশংসার রিপোর্টই মঙ্গলবার বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। এবং বুধবার সংসদে পেশ হয়েছে। আপত্তি তোলেননি বিজেপি সাংসদরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে সংসদের রিপোর্টে বাংলা মডেলের প্রশংসা তৃণমূলের তূণে অস্ত্র হয়ে রইল।