নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকার নৃশংস খুনের ঘটনার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রহস্যভেদ করল দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় রবিবার পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমানের এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল ওই অধ্যাপিকাকে।
নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন। বুধবার তাঁর ফ্ল্যাট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁকে। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন মুখে মাস্ক পরে এক দম্পতি ও তাঁদের নাবালক ছেলে ওই আবাসনে প্রবেশ করেন। তাঁরা একটি ক্যাবে সেখানে পৌঁছন। সন্দেহ এড়াতে ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। পরিচিত হওয়ায় সহজেই দেবস্মিতা পালের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ফ্ল্যাটে ঢোকার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে প্রায় আধ ঘণ্টা পরে তাঁরা আবাসন ছেড়ে চলে যান। নিচে অপেক্ষারত ক্যাবে করেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
তদন্তের স্বার্থে আবাসনে প্রবেশ করা প্রায় ২০০ জনের তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি চারটি রাজ্যে তল্লাশি চালায় পুলিশের সাতটি বিশেষ দল। শেষ পর্যন্ত বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে মপ্রসাদ দাস,বনশ্রী দাস নামে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবারতি পাল পুলিশকে খবর দেন। বারবার ফোন করেও কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি ফ্ল্যাটে পৌঁছন। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় বোনের দেহ দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, দেবস্মিতা পালের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাতের শিরাও কাটা ছিল। তবে ফ্ল্যাট থেকে কোনও গয়না বা নগদ অর্থ খোয়া যায়নি। ফলে এটি ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান।