


জয়পুর: একাধিক এলাকা অন্ধকার। পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলি প্রায় নিস্তব্ধ। জোর কদমে চলছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মহড়া। ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা কীভাবে করতে হয়, শনিবার তারই প্রস্তুতি চালাচ্ছিল রাজস্থানের প্রশাসন। এহেন ‘মক ড্রিল’-এর মাঝেই সত্যিকারের হামলার শিকার হলেন পুলিস ও প্রশাসনের কর্তারা। কোনও মানুষ নয়। মহড়ায় তিতিবিরক্ত হয়ে হামলা চালাল একঝাঁক মৌমাছি। প্রাণ বাঁচাতে ছুট লাগান অফিসাররা। কোনওমতে রক্ষা পান তাঁরা।
‘অপারেশন শিল্ড’-এর অংশ হিসেবে শনিবার রাতে রাজস্থানের বিভিন্ন অংশে ‘মক ড্রিল’ চালানো হয়। কোথাও আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে। আবার কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা কীভাবে করা যায় তার মহড়া চলেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন শহরে ১৫ থেকে ২৫ মিনিটের জন্য ‘ব্ল্যাক আউট’ করা হয়। এই সময়ে হেডলাইট বন্ধ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক গাড়ি। আজমির, জয়পুর থেকে শুরু করে বারমের। কিছুক্ষণের জন্য অন্ধকারে ডুবে যায় রাজস্থানের বেশকিছু শহর।
ঝালোয়ারের কালীসিন্ধ বাঁধেও ড্রোন হামলার ‘মক ড্রিল’ চলছিল। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিস সুপার সহ বহু সরকারি কর্তা। মহড়ার সময়ে আকাশে বেশকিছু ড্রোন ওড়ানো হচ্ছিল। তাতেই চটে যায় মৌমাছির দল। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধাওয়া করে তারা। প্রাণ বাঁচাতে ছুটে অন্যত্র চলে যান অফিসাররা। মৌমাছিদের তাণ্ডবে কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় মহড়ার কাজ।
জয়পুরের খাতিপুরা রোডে সরকারি স্কুলের মাঠে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মহড়া হয়। সেনা কলোনির মক ড্রিলে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ডঃ জীতেন্দ্র সোনি। তিনি বলেন, ‘হামলার খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলেস পৌঁছে যাই। খেত দিয়ে যাওয়ার সময় ন’জন গ্রামবাসীর উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। একইসঙ্গে ছাদে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের মহড়াও খতিয়ে দেখা হয়। এই পর্বে ছাদে উঠে সাহায্যের আর্জি জানান বেশ কয়েকজন মানুষ। ক্রেন ব্যবহার করে তাঁদের প্রাণ বাঁচানো হয়।’ এদিনের মহড়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এনসিসি ক্যাডেটরা। সিকারের একটি হাসপাতালেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা নিয়ে মহড়া চলে।