


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে ইন্টিগ্রেটেড টিচার এডুকেশন প্রোগ্রাম (আইটিইপি) চালুর সময়সীমা একবছর বাড়ানো হল। শিক্ষক শিক্ষণের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের পরিবর্তে তা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হবে। তবে, ২৭ মে’র মধ্যেই আইটিইপি চালুর জন্য এনসিটিইর কাছে আবেদন জানাতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে।
বিএড আর বর্তমান পদ্ধতিতে থাকছে না। আগামী কয়েকবছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে ডিএলএড কোর্সও। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ পরিবর্তন আসবে শিক্ষক-শিক্ষণ পদ্ধতির। শিক্ষক শিক্ষণের জন্য চালু করতে হবে আইটিইপি। তবে, তার আগে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এর জন্য যোগ্যতামানে উত্তীর্ণ হতে হবে। জমি, বিল্ডিং, ন্যূনতম অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা সবই বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ মেনে প্রতিষ্ঠানগুলিকে হতে হবে মাল্টিডিসিপ্লিনারি। অর্থাৎ, বিএড বা এমএডের পাশাপাশি নানা ডিগ্রি কোর্স করাতে হবে কলেজগুলিকে। তবেই আবেদন করা যাবে আইটিইপিতে। আর এখানেই বিপাকে পড়েছে রাজ্যের ছ’শোর বেশি বিএড কলেজ।
পুরনো কলেজ তো বটেই, নতুন কলেজগুলিতেও অত বড় জমি বা বিল্ডিং নেই। শিক্ষক সংখ্যাও আশানুরূপ নয়। তাই মাল্টিডিসিপ্লিনারি কোর্স চালু এখন দূরের স্বপ্ন। আইটিইপি চালু না করতে পারলে আশু সমস্যা হল, একবছরের বিএড কোর্স চালুর অনুমতি মিলবে না। আর কয়েকবছরের মধ্যে বন্ধই করে দিতে হবে প্রতিষ্ঠান। তাই ৬ মে এনসিটিই তারে ৬৫তম বৈঠকে ঠিক করেছে, আপাতত এটি চালু করতে বাধ্য করা হবে না। একবছর সময় দেওয়া হবে। তবে, যারা ইতিমধ্যেই এই অনুমোদন পেয়েছে, তারা সেটি চালিয়ে যাবে।
আইটিইপি’র জন্য একটি নম্বর ভিত্তিক মাপকাঠিও চালু করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব এমিনেন্স, ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ইম্পর্টেন্স, ইউজিসির ১ ক্যাটিগরিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ৮ নম্বর পাবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাকের এ++ গ্রেড থাকলেও মিলবে ৮ নম্বর। এ+ গ্রেড থাকলে ৭, এ এবং বি++ গ্রেডে ৬, বি+ গ্রেডে ৫, বি গ্রেডে ৪ এবং বি গ্রেডের নীচে থাকলে ৩ নম্বর দেওয়া হবে। ন্যাকের অ্যাক্রেডিটেশন না থাকলে কোনও নম্বর পাওয়া যাবে না। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্কের (এনআইআরএফ) তালিকায় ১ থেকে ১০০-এর ক্রমতালিকায় থাকলে ৪ নম্বর, ১০১ থেকে ৩০০-এ ৩ নম্বর, ৩০১ থেকে ৪০০-এ ২ নম্বর, ৫০১ থেকে তার বেশি র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর মিলবে।
৩০ বছর বা তার বেশি পুরোনো মাল্টিডিসিপ্লিনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৪ নম্বর পাবে। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি প্রতিষ্ঠান ৩ নম্বর, ১০ থেকে ২৫ বছর বয়সি প্রতিষ্ঠান ২ নম্বর এবং ১০ বছরের কম পুরনো প্রতিষ্ঠান ১ নম্বর পাবে। এনসিটিই অনুমোদিত কোর্স চালানো প্রতিষ্ঠানগুলি বাড়তি ২ নম্বর পাবে। তবে, এসব নম্বর প্রযোজ্য হওয়ার প্রাথমিক শর্তই হল মাল্টিডিপ্লিনারি কোর্স চালু। সেখানেই আটকে রয়েছে রাজ্যের বিএড কলেজগুলি।