টোটন বর্মন, শীতলকুচি: ২০০০ সালে পথচলা শুরু। তারপর দীর্ঘপথ পেরিয়েছে শীতলকুচি ব্লকের বড় মধুসূদন রূপেশ্বর রায় হাইস্কুল। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দু’দিন ব্যাপী রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন শুরু করল স্কুল। ২৫ বছর উপলক্ষ্যে পড়ুয়াদের নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। নানা ধরনের ফুল, বেলুন ও আলোয় সাজানো হয়েছে স্কুল প্রাঙ্গণ। এদিন সকালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়া, অভিভাবক সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৈরাতি নৃত্যের মধ্যে দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা হলেও ২০০১ সালে দু’জন শিক্ষককে নিয়ে ক্লাস শুরু হয়। বর্তমানে স্কুলে ৯০০ জন পড়ুয়া, ১০ জন শিক্ষক ও আটটি ক্লাস রুম রয়েছে। গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বড় মধুসূদন রূপেশ্বর রায় হাইস্কুল। এই স্কুলে থেকে উত্তীর্ণ বহু মেধাবী পড়ুয়া আজ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পেশায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
রজতজয়ন্তী বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পঞ্চানন অনুরাগী তথা মাথাভাঙা মহাবিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সুনীলকুমার প্রামাণিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্কুলের ভূমিদাতা স্বর্গীয় রূপেশ্বর রায়ের পুত্রবধূ প্রমীলা রায়। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মনোজকুমার মণ্ডল, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপন দাশগুপ্ত, প্রাক্তন বিধায়ক হিতেন বর্মন, শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মদন বর্মন, তপনকুমার গুহ প্রমুখ এসেছিলেন।
এদিন সকাল থেকেই নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেয় স্কুলের পড়ুয়ারা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবৃত্তি , নৃত্য, সঙ্গীত সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দু’দিন সন্ধ্যায় টিভির রিয়ালিটি শো’খ্যাত বহিরাগত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পড়ুয়া ও স্থানীয়দের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বঙ্কিমচন্দ্র বীর বলেন, সকলের উপস্থিতিতে রজতজয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠান সর্বাঙ্গ সুন্দর হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দু’দিন স্কুল প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ, শুক্রবার শেষ দিনের অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি ও সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
নিজস্ব চিত্র।