নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সুশান্ত ঘোষ, তন্ময় ভট্টাচার্যের পর বংশগোপাল চৌধুরী। সিপিএমের মহিলা নেত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী বংশগোপালের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি ওই মহিলা। দলীয়স্তরে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। পত্রপাঠ সিপিএমের রাজ্য কমিটির আইসিসি (ইন্টারন্যাল কমপ্লেইন কমিটি বা অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রবিবার সিপিএমের পক্ষ থেকে বংশগোপালকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। পার্টির দলীয় মুখপত্রে রাজ্য সম্পাদকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে—‘গুরুতর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে বংশগোপাল চৌধুরীকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হল।’ এরপরই পাল্টা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করেছেন বংশগোপাল। রবিবার তিনি সাংবাদিকে সম্মেলন করে বলেন, ‘কাঁচের ঘরে থেকে আমাকে ঢিল মারবেন না।’
ফেব্রুয়ারি মাসে সিপিএম নেতা বংশোগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দাগেন রত্না দাস নামে ওই মহিলা। তিনি অভিযোগ করেন, ফেসবুকের মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ-এ কুমন্তব্য করেছেন প্রাক্তন সিপিএম মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি দলের অনুশাসন মেনে প্রথমে মুর্শিদাবাদ সিপিএমের জেলা সম্পাদক ও পরে রাজ্য সম্পাদককে জানিয়েছিলেন। তাঁরা তদন্তের কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই করেনি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি, মহিলার সঙ্গে বংশগোপালের চ্যাটের একাংশ ভাইরালও হয়। একটি অডিও ক্লিপিং ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে মহিলার পায়ে পড়ে বিষয়টি মেটানোর আর্জি জানাতে শোনা যাচ্ছে বংশগোপালকে (যদিও চ্যাট ও অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান)। ব্রিগেডের পরেই বংশগোপালকে নিয়ে সিপিএমের বিড়ম্বনা বাড়ে। তা রাজনৈতিক মহলে জলঘোলার মধ্যেই বংশপোপালকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে লালপার্টি। যুক্তি হিসেবে রাজ্য সম্পাদকের তরফে এটাও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংশোধনের চেষ্টা করার পরও বংশগোপাল সংশোধিত হননি।
সিপিএমের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিযোগকারিনী রত্না দাস। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত থেকেই স্পষ্ট আমার দল সিপিএম কেন অন্য দলের থেকে আলাদা। আমাদের দল কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়না। দলের মধ্যে যতই প্রভাবশালী হোক, দোষ করলে শাস্তি হবেই। এই জয় আমার একার নয়, আমাদের নারী সমাজের জয়।’
অন্যদিকে, বহিষ্কারের পরই দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বংশগোপাল। এদিন রানিগঞ্জে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলের একাংশ কাজ করতে চেয়েছে। আমি তাতে বাধা হচ্ছিলাম। দলের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। আমি থাকায় তা সমস্যা হচ্ছিল। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। আমাকে ট্র্যাপে ফেলা হয়েছে। কে বা কারা বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে যায় সব জানি। দলের সেই নৈতিকতা আর নেই। কারা কারখানা, কয়লা খনির সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত, তার প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে। কাঁচের ঘরে বসে আমাকে ঢিল মারবেন না।’ সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দলের বিরুদ্ধে উনি যা অভিযোগ এনেছেন তা ভিত্তিহীন।’ বিজেপি রাজ্য সম্পাদক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, ‘সিপিএম তৃণমূলের অক্সিজেনে বেঁচে রয়েছে। ওদের কথার কোনও গুরুত্ব নেই। তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘উনি অনেকদিন সিপিএমের সঙ্গে ঘর করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক কথাই বলেছেন। সিপিএম তো শিল্পাঞ্চলে বিজেপির সঙ্গে মিশে গিয়েছে।’