Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়িতে বসেই এবার মজুরির টাকা পাবেন বাঁকুড়ার শ্রমিকরা, উদ্যোগ বিমা সংস্থার

৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা উঠলেই বাড়িতে বসে পাওয়া যাবে মজুরির ক্ষতিপূরণ

বাড়িতে বসেই এবার মজুরির টাকা পাবেন বাঁকুড়ার শ্রমিকরা, উদ্যোগ বিমা সংস্থার
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তাপমাত্রা উঠলেই বাড়িতে বসে পাওয়া যাবে মজুরির ক্ষতিপূরণ। দুই বেসরকারি বিমা সংস্থার উদ্যোগে বাঁকুড়ায় শুরু হতে চলেছে পাইলট প্রজেক্ট। গরমের পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টির মতো প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাজে না যেতে পারলেও শ্রমিকরা বাড়িতে বসেই দৈনিক ৩৫০ টাকা করে পাবেন। সোমবার বাঁকুড়ার রবীন্দ্র ভবনে শ্রমিকদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বাঁকুড়ার সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ চক্রবর্তী সহ শাসক দলের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং দুই বিমা সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। 

Advertisement

এব্যাপারে বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, ওই ধরনের বিমার সঙ্গে সরকারের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে বিমা করতেই পারেন।
অরূপবাবু বলেন, রাজ্য সরকারের শস্যবিমা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একটি বিমা সংস্থা অন্য একটি বহুজাতিক বিমা সংস্থাকে শ্রমিকদের হয়ে প্রিমিয়ামের টাকা মেটাবে। গরমে বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ফলে তীব্র গরমে  শ্রমিকরা কাজ করতে না পারলেও মজুরির ঘাটতি বিমার ক্ষতিপূরণের টাকায় পুষিয়ে নিতে পারবেন। আমরা অঞ্চল ও ব্লক স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি। তাঁরা শ্রমিকদের আবেদন করতে সাহায্য করবেন। যত বেশি সম্ভব শ্রমিককে ওই বিমার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। 
বিমা সংস্থার তরফে সভায় উপস্থিত কনক সরকার বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসাবে বাঁকুড়ায় এই কর্মসূচি আমরা এবারই প্রথম চালু করতে চলেছি। এবছর ২৫ হাজার শ্রমিককে সুবিধা প্রদান করা হবে। খেতমজুরদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও কর্মরত শ্রমিকরা বিমার সুবিধা পাবেন। ২০ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাঁকুড়ার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলেই শ্রমিকরা ৩৫০ টাকা করে দৈনিক পাবেন। এছাড়াও ঝড়ঝঞ্ঝার কারণে কাজে যেতে না পারলেও শ্রমিকরা ওই হারেই টাকা পাবেন। তবে একজন শ্রমিক এই মরশুমে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন। তার বেশি টাকা বিমা সংস্থা দেবে না। 
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংস্থা রাজ্য সরকারের শস্যবিমা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পঞ্চায়েত স্তরে আমাদের সংস্থার প্রতিনিধিরা সারা বছর চাষি, শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁরাও শ্রমিকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করবেন। সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক সংস্থাকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ ৪ শতাংশ টাকা (মোট ক্ষতিপূরণের পাঁচ হাজার টাকার হিসেবে) দিতে হবে। শ্রমিকদের হয়ে প্রিমিয়ামের টাকা আমরা ওই সংস্থাকে মিটিয়ে দেব। 
এতে আপনাদের কী লাভ? উত্তরে কনকবাবু বলেন, আমরা রাজ্য সরকারের শস্যবিমার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সুবিধা পেয়ে থাকি। ফলে পাইলট প্রকল্প হিসাবে প্রথমবার ২৫ হাজার শ্রমিকের বিমার প্রিমিয়াম আমরা লভ্যাংশ থেকেই মেটাব। এবার সাফল্য পেলে আগামী দিনে অন্যান্য জেলাতেও এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ